July 4, 2026, 7:55 am

খামেনির মৃত্যু: ইরানের রাষ্ট্রকাঠামোর ওপর বড় আঘাতের প্রতীক

খামেনির মৃত্যু: ইরানের রাষ্ট্রকাঠামোর ওপর বড় আঘাতের প্রতীক

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু, ২৮ ফেব্রুয়ারি, দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর একটি বড় আঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কর্মকর্তাদের মতে, এটি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা ইরানি রাষ্ট্রব্যবস্থার একটি যুগের সমাপ্তি।

১৯৮৯ সালে ইরান-ইরাক যুদ্ধের পর খামেনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তার নেতৃত্বে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। তার শাসনামলে ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার রক্ষায় অনড় থাকে।

খামেনি বারবার দাবি করেছেন যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না, তবে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার রক্ষায় তিনি দৃঢ় ছিলেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানের ওপর একাধিক দফায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

আঞ্চলিক নীতিতে, খামেনি মিত্র সরকার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন, যা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বাড়ায়। তবে এর ফলে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।

ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, খামেনির হত্যাকাণ্ড ছিল রাষ্ট্রের কেন্দ্রবিন্দুতে সরাসরি আঘাত হানার প্রচেষ্টা। যদিও তার সমর্থকদের একটি অংশ বিশ্বাস করে যে, তার মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে ঘটানো হয়েছে, তবে ইরানি নেতৃত্বের দাবি, রাষ্ট্রের কাঠামো অক্ষুণ্ন রয়েছে এবং দেশের নীতিগত অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে না।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা