কেপ ভার্দের উপকূলে নোঙর করা হান্টাভাইরাস আক্রান্ত ক্রুজ জাহাজ থেকে তিনজনকে জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে জাহাজে ওঠা চিকিৎসক দল জানিয়েছে, সরিয়ে নেওয়ার অপেক্ষায় থাকা তিনজনই বর্তমানে শারীরিকভাবে স্থিতিশীল আছেন। কেপ ভার্দের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, দুইটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে তাদের সরিয়ে নেওয়া হবে, যার একটি ইতোমধ্যে পৌঁছেছে। এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, জাহাজে সীমিত আকারে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ডব্লিউএইচও’র মহামারি প্রস্তুতি বিভাগের কর্মকর্তা ডা. মারিয়া ভ্যান কেরখোভে বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ ছিল।
তাই সতর্কতার অংশ হিসেবে আমরা সীমিত সংক্রমণের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিচ্ছি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি খুবই কম এবং এটি ফ্লু বা কোভিড-১৯ এর মতো দ্রুত ছড়ায় না। বর্তমানে এমভি হন্ডিয়াস নামের জাহাজটিতে প্রায় ১৫০ জন যাত্রী আটকা পড়ে আছেন, যার মধ্যে ১৭ জন মার্কিন নাগরিকও রয়েছেন। জাহাজটি আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে যাত্রা শুরু করে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে বিভিন্ন দূরবর্তী দ্বীপে ভ্রমণ করছিল। এ পর্যন্ত জাহাজে মোট সাত জনের হান্টাভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে দুইজনের নিশ্চিত এবং পাঁচ জন সন্দেহভাজন রয়েছেন। ইতোমধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছে ডাচ দম্পতি এবং একজন জার্মান নাগরিক।
এছাড়া এক ব্রিটিশ নাগরিক দক্ষিণ আফ্রিকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উদ্ধার পরিকল্পনা অনুযায়ী, আক্রান্তদের সরিয়ে নেওয়ার পর জাহাজটি ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে রওনা দেবে। সেখানে পৌঁছানোর পর স্পেনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা, জীবাণুমুক্তকরণ এবং মহামারির সম্ভাবনা তদন্ত করবে। জাহাজটিতে বর্তমানে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে।
আক্রান্তদের আলাদা রাখা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ এবং যাত্রীদের কেবিনে খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাত্রীরা সীমিত সময়ের জন্য খোলা ডেকে যেতে পারছেন, তবে ভেতরের সাধারণ স্থানে একত্রে হওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাস সাধারণত রোগাক্রান্ত ইঁদুরের মল, মূত্র বা লালার মাধ্যমে ছড়ায়। তবে দক্ষিণ আমেরিকায় পাওয়া ‘অ্যান্ডিস’ প্রজাতির ভাইরাস মানুষে-মানুষে ছড়াতে পারে।
ধারণা করা হচ্ছে, এই জাহাজে সেই ধরনের ভাইরাসই থাকতে পারে। হান্টাভাইরাস একটি বিরল কিন্তু মারাত্মক রোগ। এতে আক্রান্তদের প্রায় ৩৮ শতাংশ মৃত্যুর ঝুঁকিতে থাকে। শুরুতে জ্বর, শরীর ব্যথা ও দুর্বলতা দেখা দিলেও পরে তা ফুসফুসের মারাত্মক সংক্রমণ, শ্বাসকষ্ট এবং অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়ার মতো জটিলতায় রূপ নিতে পারে। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।