May 22, 2026, 6:48 pm

ইসরায়েলকে বাঁচাতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ‘অর্ধেক মজুদ’ শেষ যুক্তরাষ্ট্রের

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে রক্ষায় ২০০টির বেশি থাড ইন্টারসেপ্টর নিক্ষেপ করেছে, যা পেন্টাগনের মোট মজুদের প্রায় অর্ধেক। এর পাশাপাশি পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে আরো শতাধিক স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল-৩ এবং স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল-৬ ব্যবহার করা হয়।
অন্যদিকে ইসরায়েল তুলনামূলকভাবে অনেক কম প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। দেশটি ১০০টির কম অ্যারো ইন্টারসেপ্টর এবং প্রায় ৯০টি ডেভিড’স স্লিং ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এর কিছু ইয়েমেন ও লেবাননভিত্তিক ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর ছোড়া তুলনামূলক কম উন্নত রকেট প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক ঘাঁটি, নৌ ও বিমানবাহিনীর স্থাপনায় হামলা চালানোর মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু করে। কয়েক সপ্তাহের সংঘাতে ইরানের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব বড় ধাক্কা খায়। এমনকি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকেও হত্যা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
পরবর্তী সময়ে ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সংঘাত সাময়িকভাবে থেমে যায়। এর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ চার দশকের বৈরিতা নিরসনে শান্তি আলোচনা চলছে।
একজন মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, ‘মোট হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১২০টির বেশি ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে এবং ইরানের দ্বিগুণ ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবেলা করেছে।’
তবে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন।
কর্মকর্তাদের মতে, যদি আবার যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকে আরো বেশি প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হতে পারে। কারণ ইসরায়েল সম্প্রতি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যাটারি সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে।
এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যুদ্ধ আবার শুরু হলে এই ভারসাম্যহীনতা আরো বাড়বে।’
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন দাবি করেছে, পুরো অভিযানে দুই দেশই সমানভাবে দায়িত্ব ভাগাভাগি করেছে।
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, ‘ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থা শুধু বড় প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের একটি অংশ। অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’-তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয়ই সমানভাবে প্রতিরক্ষার দায়িত্ব পালন করেছে।’
তিনি আরো জানান, অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন প্রতিরোধব্যবস্থা এবং উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সর্বোচ্চ কার্যকারিতার সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে।
ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাসও যৌথ অভিযানের পক্ষে অবস্থান নেয়। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, “অপারেশন ‘রোরিং লায়ন’ ও ‘এপিক ফিউরি’ দুই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। সামরিক সক্ষমতা, প্রস্তুতি ও অভিন্ন স্বার্থের দিক থেকে ইসরায়েলের মতো অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের আর নেই।”

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা