-
- আন্তর্জাতিক
- ইসরায়েলকে বাঁচাতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ‘অর্ধেক মজুদ’ শেষ যুক্তরাষ্ট্রের
- আপডেটের সময় : মে, ২২, ২০২৬, ৬:৩০ পূর্বাহ্ণ
- 11 বার দেখা হয়েছে
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে রক্ষায় ২০০টির বেশি থাড ইন্টারসেপ্টর নিক্ষেপ করেছে, যা পেন্টাগনের মোট মজুদের প্রায় অর্ধেক। এর পাশাপাশি পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে আরো শতাধিক স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল-৩ এবং স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল-৬ ব্যবহার করা হয়।
অন্যদিকে ইসরায়েল তুলনামূলকভাবে অনেক কম প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। দেশটি ১০০টির কম অ্যারো ইন্টারসেপ্টর এবং প্রায় ৯০টি ডেভিড’স স্লিং ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এর কিছু ইয়েমেন ও লেবাননভিত্তিক ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর ছোড়া তুলনামূলক কম উন্নত রকেট প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক ঘাঁটি, নৌ ও বিমানবাহিনীর স্থাপনায় হামলা চালানোর মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু করে। কয়েক সপ্তাহের সংঘাতে ইরানের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব বড় ধাক্কা খায়। এমনকি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকেও হত্যা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
পরবর্তী সময়ে ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সংঘাত সাময়িকভাবে থেমে যায়। এর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ চার দশকের বৈরিতা নিরসনে শান্তি আলোচনা চলছে।
একজন মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, ‘মোট হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১২০টির বেশি ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে এবং ইরানের দ্বিগুণ ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবেলা করেছে।’
তবে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন।
কর্মকর্তাদের মতে, যদি আবার যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকে আরো বেশি প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হতে পারে। কারণ ইসরায়েল সম্প্রতি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যাটারি সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে।
এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যুদ্ধ আবার শুরু হলে এই ভারসাম্যহীনতা আরো বাড়বে।’
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন দাবি করেছে, পুরো অভিযানে দুই দেশই সমানভাবে দায়িত্ব ভাগাভাগি করেছে।
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, ‘ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থা শুধু বড় প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের একটি অংশ। অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’-তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয়ই সমানভাবে প্রতিরক্ষার দায়িত্ব পালন করেছে।’
তিনি আরো জানান, অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন প্রতিরোধব্যবস্থা এবং উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সর্বোচ্চ কার্যকারিতার সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে।
ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাসও যৌথ অভিযানের পক্ষে অবস্থান নেয়। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, “অপারেশন ‘রোরিং লায়ন’ ও ‘এপিক ফিউরি’ দুই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। সামরিক সক্ষমতা, প্রস্তুতি ও অভিন্ন স্বার্থের দিক থেকে ইসরায়েলের মতো অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের আর নেই।”
এই বিভাগের আরও খবর
- যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের পদ ছাড়ছেন তুলসী গ্যাবার্ড
- ৫৭৮ নাতি-নাতনি, ১০২ সন্তান, ১২ স্ত্রীকে নিয়ে সংসার মুসার
- টফি আর সেলফি: ইতালি-ভারত বৈঠকে ভাইরাল ‘মেলোডি’ মুহূর্ত
- অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে আদালত নয়, সোজা সীমান্ত পার: শুভেন্দু অধিকারী
- আল জাজিরা বিশ্লেষণ : একে অপরের প্রতি কতটা নির্ভরশীল রাশিয়া-চীন
- সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় বসানোর পরিকল্পনা ছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের
- ইরান যুদ্ধ চালাতেই হবে: ট্রাম্প
- যুক্তরাষ্ট্র-নাইজেরিয়ার যৌথ অভিযানে নিহত ১৭৫ আইএস জঙ্গি
- সিবিএসের প্রতিবেদন হরমুজ প্রণালিতে অন্তত ১০টি মাইন শনাক্তের দাবি মার্কিন গোয়েন্দাদের
- পাকিস্তানের পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে অপসারণ করা হয় ২০২২ সালের এপ্রিলে। সে ঘটনার প্রায় চার বছর পর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার দাবি করেছে একটি মার্কিন গণমাধ্যম। এতে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিষয়ে ইমরান খানের অবস্থান নিয়ে ক্ষেপে গিয়েছিলেন মার্কিন কর্মকর্তারা। ‘ফ্রম মিউচুয়াল সাসপিশন টু পলিটিক্যাল এমব্রেস: হাউ দ্য ইউএস লার্নড টু স্টপ ওয়ারিয়িং অ্যান্ড লাভ পাকিস্তান’ শিরোনামে সোমবার ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে অনুসন্ধানী গণমাধ্যম ‘ড্রপ সাইট’। এর একটি অংশে ইমরান খানকে অপসারণের প্রক্রিয়া এবং এতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক তৎকালীন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র হিসেবে তারা গোপন কূটনৈতিক তারবার্তার বরাত দিয়েছে। দীর্ঘ প্রতিবেদনটির ‘অল উইল বি ফরগিভেন’ উপশিরোনামের অংশে গণমাধ্যমটি লিখেছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করেন। এরপর রাশিয়াকে দমানোর বিষয়টি তৎকালীন জো বাইডেন প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে ওঠে। কোনো একটি পক্ষ বেছে নেওয়ার জন্য মার্কিন কূটনীতিকরা বিভিন্ন দেশের সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। ওই সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিশ্ব যখন বিভক্ত হতে শুরু করে, তখন আকস্মিক এক ঝড়ের মাঝে পড়ে পাকিস্তান। ইমরান খান ও ডোনাল্ড লু। ছবি: সংগৃহীত ইমরান খান ও ডোনাল্ড লু। ছবি: সংগৃহীত ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ বাহিনী ইউক্রেনের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। সেদিনই পূর্ব নির্ধারিত একটি সফরে মস্কোতে অবস্থান করছিলেন পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পুতিনের সঙ্গে তিনি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন। তবে এই সফরের কয়েকদিন আগে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মইদ ইউসুফকে ফোন করেছিলেন জো বাইডেনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান। তিনি ইমরান খানের মস্কো সফর বাতিলের তাগিদ দেন। ইউসুফ ও সুলিভানের ফাঁস হওয়া সেই ফোনালাপের বরাত দিয়ে ড্রপ সাইট লিখেছে, সুলিভান ওই সফরের বিষয়ে ইসলামাবাদকে সতর্ক করেছিলেন। ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিতে তিনি পাকিস্তানকে চাপ দেন। কিন্তু ইমরান খান সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেন। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর খবর যেদিন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সেদিনই পুতিন ও ইমরান খানের বৈঠকের একটি ছবি ভাইরাল হয়। তাতে দুই নেতা করমর্দন করছিলেন। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা তখন বলেছিলেন, কয়েক মাস ধরে ওই সফরটির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাই সেটি বাতিলের সুযোগ ছিল না। কিন্তু তারপরও ওয়াশিংটন বৈঠকটিকে সহজভাবে নেয়নি। পুতিন-ইমরান বৈঠকের কয়েকদিন পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব তোলা হয়। তাতে চীন, ভারত ও গ্লোবাল সাউথের বেশিরভাগ দেশ ভোট দিলেও পাকিস্তান বিরত থাকে। ড্রপ সাইট লিখেছে, ইমরান খানের মস্কো সফর এবং ওয়াশিংটনের পক্ষ না নেওয়ায় মার্কিন কূটনীতিকরা এমনিতেই ক্ষুব্ধ ছিলেন। ফলে তাঁরা ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় পাকিস্তানি প্রতিনিধিদের জানাতে শুরু করেন, দুই দেশের সুসম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। ইমরান খান ও ভ্লাদিমির পুতিন। ফাইল ছবি: এএফপি ইমরান খান ও ভ্লাদিমির পুতিন। ফাইল ছবি: এএফপি ২০২২ সালের ৭ মার্চ ডোনাল্ড লুর সঙ্গে বৈঠক করেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদ খান। পরে মজিদ ও লুর কথোপকথনের অত্যন্ত গোপনীয় একটি কূটনৈতিক তারবার্তা ফাঁস হয়। যেটি সাইফার নামে পরিচিত। তারবার্তার বরাত দিয়ে ড্রপ সাইট লিখেছে, পাকিস্তানি দূতকে ডোনাল্ড লু বলেছিলেন, ইমরান খানের সরকারের প্রতি ওয়াশিংটনের যে ক্ষোভ তা এড়ানো সম্ভব। লু আরো বলেছিলেন, ‘অল উইল বি ফরগিভেন’ অর্থাৎ সবকিছু ক্ষমা করে দেওয়া হবে। এই বাক্যটির উদ্ধৃতি দিয়ে পরে পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, ‘যদি অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়।’ পরের মাসে (৯ এপ্রিল) পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট একটি অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়। এরপর তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফকে (পিটিআই) কার্যত নিষিদ্ধ করা হয়। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে পিটিআইয়ের যেসব নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন, তাঁদেরও স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচনের এসব বিষয় তখন এড়িয়ে যায়। ড্রপ সাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন। স্ক্রিনশট ড্রপ সাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন। স্ক্রিনশট ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে দুর্নীতি, আদালত অবমাননা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ড্রপ সাইট লিখেছে, ইমরান খানের সরকার ওয়াশিংটনকে যা যা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, সামরিক সমর্থনপুষ্ট বর্তমান সরকার ক্ষমতায় বসে তা সরবরাহ করতে শুরু করে। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে পাকিস্তান গোপনে ইউক্রেনের কাছে গোলাবারুদ পাঠায়। ফাঁস হওয়া নথি থেকে জানা যায়, ওই অস্ত্রগুলো তৃতীয় দেশের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইউক্রেনে পাঠানো হয়েছিল। বিনিময়ে পাকিস্তান পরে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পায়