-
- আন্তর্জাতিক
- আল জাজিরা বিশ্লেষণ : একে অপরের প্রতি কতটা নির্ভরশীল রাশিয়া-চীন
- আপডেটের সময় : মে, ২১, ২০২৬, ৬:৫৫ পূর্বাহ্ণ
- 7 বার দেখা হয়েছে
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চীনে পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরের মাত্র চার দিন পর। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয় বরং চীন নিজেকে বিশ্বের একটি নির্ভরযোগ্য ও শক্তিশালী দেশ হিসেবে তুলে ধরার কৌশলের অংশ।
ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে মস্কো ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে। রাশিয়া এখন চীনের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে সংকটের কারণে চীনও রাশিয়ার স্থলপথের জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে।
পুতিন এখন চীন সফরে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এটি তাদের এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় সরাসরি বৈঠক। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক যে আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে, এটা তার স্পষ্ট ইঙ্গিত।
এই সফরের সময়টাও তাৎপর্যপূর্ণ। ২০০১ সালে স্বাক্ষরিত সৌহার্দ্যপূর্ণ প্রতিবেশী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি হচ্ছে এ সময়। ওই চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সন্দেহ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা পেরিয়ে দুই দেশ নতুন সম্পর্কের ভিত্তি গড়েছিল।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে চীনে পৌঁছানোর পর পুতিনকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। আজ বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রথমে ছোট পরিসরে এবং পরে বড় পরিসরে বৈঠক হয়েছে।
ট্রাম্পের অনিশ্চয়তা দুই দেশকে আরও কাছে নিয়ে এসেছে
মস্কো ও বেইজিং—দুই দেশই এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জটিল সম্পর্ক সামলাচ্ছে। ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির অনিশ্চয়তা তাদের আরও কাছাকাছি এনেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইউক্রেন যুদ্ধ চলছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অস্থির হয়ে উঠেছে। চীন, যারা বিপুল পরিমাণ তেল-গ্যাস আমদানি করে, তাদের জন্য এটা বড় উদ্বেগের বিষয়। ফলে তারা রাশিয়ার স্থলপথের নিরাপদ জ্বালানি সরবরাহের দিকে বেশি নজর দিচ্ছে।
সম্পর্ক কীভাবে বদলেছে
একসময় চীন ও রাশিয়ার (সোভিয়েত ইউনিয়ন) সম্পর্ক ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভরা। শীতল যুদ্ধের সময় ৪ হাজার ৩০০ কিলোমিটার সীমান্তে উত্তেজনা প্রায় যুদ্ধের দিকে নিয়ে গিয়েছিল। সেই সীমান্ত আজ কৌশলগত সহযোগিতা ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে।
পুতিন ও শি জিনপিং দুজনেই একে অপরকে বন্ধু বলে সম্বোধন করেন। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর এই সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে।
রাশিয়ার কাছে চীন কেন এত জরুরি
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার অর্থনীতির জন্য চীন হয়ে উঠেছে জীবনরেখা। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ২৩৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
তবে এই সম্পর্ক অসম। চীনের মোট বাণিজ্যের মাত্র ৪ শতাংশ রাশিয়ার সঙ্গে। ফলে আলোচনায় চীনের দর কষাকষির ক্ষমতা অনেক বেশি। নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া তার প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির ৯০ শতাংশের বেশি চীন থেকে নিচ্ছে। তেল-গ্যাসেরও বড় ক্রেতা এখন চীন।
চীনের কাছে রাশিয়া কেন দরকার
চীনের জন্য রাশিয়া মানে নিরাপদ জ্বালানি। হরমুজ প্রণালিতে ঝুঁকি বাড়ায় বেইজিং ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ পাইপলাইন প্রকল্পকে নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে। এই পাইপলাইন চালু হলে মঙ্গোলিয়া হয়ে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ গ্যাস চীনে আসবে।
শুধু অর্থনীতি নয়, ভূরাজনীতিতেও রাশিয়া চীনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে দুই দেশ প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান নেয়। যৌথ সামরিক মহড়াও নিয়মিত হচ্ছে, যদিও আনুষ্ঠানিক সামরিক জোটে চীন যায়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সম্পর্ক শুধু পশ্চিমবিরোধিতায় নয়, বরং বাস্তব অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তাই এটি সহজে ভাঙবে না।
এই সফরে পুতিন বলেছেন, রাশিয়া ও চীন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে। বর্তমান বিশ্বের অনিশ্চয়তায় এই দুই দেশের ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই বিভাগের আরও খবর
- টফি আর সেলফি: ইতালি-ভারত বৈঠকে ভাইরাল ‘মেলোডি’ মুহূর্ত
- অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে আদালত নয়, সোজা সীমান্ত পার: শুভেন্দু অধিকারী
- সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় বসানোর পরিকল্পনা ছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের
- ইরান যুদ্ধ চালাতেই হবে: ট্রাম্প
- যুক্তরাষ্ট্র-নাইজেরিয়ার যৌথ অভিযানে নিহত ১৭৫ আইএস জঙ্গি
- সিবিএসের প্রতিবেদন হরমুজ প্রণালিতে অন্তত ১০টি মাইন শনাক্তের দাবি মার্কিন গোয়েন্দাদের
- পাকিস্তানের পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে অপসারণ করা হয় ২০২২ সালের এপ্রিলে। সে ঘটনার প্রায় চার বছর পর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার দাবি করেছে একটি মার্কিন গণমাধ্যম। এতে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিষয়ে ইমরান খানের অবস্থান নিয়ে ক্ষেপে গিয়েছিলেন মার্কিন কর্মকর্তারা। ‘ফ্রম মিউচুয়াল সাসপিশন টু পলিটিক্যাল এমব্রেস: হাউ দ্য ইউএস লার্নড টু স্টপ ওয়ারিয়িং অ্যান্ড লাভ পাকিস্তান’ শিরোনামে সোমবার ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে অনুসন্ধানী গণমাধ্যম ‘ড্রপ সাইট’। এর একটি অংশে ইমরান খানকে অপসারণের প্রক্রিয়া এবং এতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক তৎকালীন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র হিসেবে তারা গোপন কূটনৈতিক তারবার্তার বরাত দিয়েছে। দীর্ঘ প্রতিবেদনটির ‘অল উইল বি ফরগিভেন’ উপশিরোনামের অংশে গণমাধ্যমটি লিখেছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করেন। এরপর রাশিয়াকে দমানোর বিষয়টি তৎকালীন জো বাইডেন প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে ওঠে। কোনো একটি পক্ষ বেছে নেওয়ার জন্য মার্কিন কূটনীতিকরা বিভিন্ন দেশের সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। ওই সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিশ্ব যখন বিভক্ত হতে শুরু করে, তখন আকস্মিক এক ঝড়ের মাঝে পড়ে পাকিস্তান। ইমরান খান ও ডোনাল্ড লু। ছবি: সংগৃহীত ইমরান খান ও ডোনাল্ড লু। ছবি: সংগৃহীত ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ বাহিনী ইউক্রেনের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। সেদিনই পূর্ব নির্ধারিত একটি সফরে মস্কোতে অবস্থান করছিলেন পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পুতিনের সঙ্গে তিনি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন। তবে এই সফরের কয়েকদিন আগে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মইদ ইউসুফকে ফোন করেছিলেন জো বাইডেনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান। তিনি ইমরান খানের মস্কো সফর বাতিলের তাগিদ দেন। ইউসুফ ও সুলিভানের ফাঁস হওয়া সেই ফোনালাপের বরাত দিয়ে ড্রপ সাইট লিখেছে, সুলিভান ওই সফরের বিষয়ে ইসলামাবাদকে সতর্ক করেছিলেন। ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিতে তিনি পাকিস্তানকে চাপ দেন। কিন্তু ইমরান খান সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেন। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর খবর যেদিন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সেদিনই পুতিন ও ইমরান খানের বৈঠকের একটি ছবি ভাইরাল হয়। তাতে দুই নেতা করমর্দন করছিলেন। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা তখন বলেছিলেন, কয়েক মাস ধরে ওই সফরটির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাই সেটি বাতিলের সুযোগ ছিল না। কিন্তু তারপরও ওয়াশিংটন বৈঠকটিকে সহজভাবে নেয়নি। পুতিন-ইমরান বৈঠকের কয়েকদিন পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব তোলা হয়। তাতে চীন, ভারত ও গ্লোবাল সাউথের বেশিরভাগ দেশ ভোট দিলেও পাকিস্তান বিরত থাকে। ড্রপ সাইট লিখেছে, ইমরান খানের মস্কো সফর এবং ওয়াশিংটনের পক্ষ না নেওয়ায় মার্কিন কূটনীতিকরা এমনিতেই ক্ষুব্ধ ছিলেন। ফলে তাঁরা ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় পাকিস্তানি প্রতিনিধিদের জানাতে শুরু করেন, দুই দেশের সুসম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। ইমরান খান ও ভ্লাদিমির পুতিন। ফাইল ছবি: এএফপি ইমরান খান ও ভ্লাদিমির পুতিন। ফাইল ছবি: এএফপি ২০২২ সালের ৭ মার্চ ডোনাল্ড লুর সঙ্গে বৈঠক করেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদ খান। পরে মজিদ ও লুর কথোপকথনের অত্যন্ত গোপনীয় একটি কূটনৈতিক তারবার্তা ফাঁস হয়। যেটি সাইফার নামে পরিচিত। তারবার্তার বরাত দিয়ে ড্রপ সাইট লিখেছে, পাকিস্তানি দূতকে ডোনাল্ড লু বলেছিলেন, ইমরান খানের সরকারের প্রতি ওয়াশিংটনের যে ক্ষোভ তা এড়ানো সম্ভব। লু আরো বলেছিলেন, ‘অল উইল বি ফরগিভেন’ অর্থাৎ সবকিছু ক্ষমা করে দেওয়া হবে। এই বাক্যটির উদ্ধৃতি দিয়ে পরে পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, ‘যদি অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়।’ পরের মাসে (৯ এপ্রিল) পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট একটি অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়। এরপর তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফকে (পিটিআই) কার্যত নিষিদ্ধ করা হয়। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে পিটিআইয়ের যেসব নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন, তাঁদেরও স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচনের এসব বিষয় তখন এড়িয়ে যায়। ড্রপ সাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন। স্ক্রিনশট ড্রপ সাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন। স্ক্রিনশট ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে দুর্নীতি, আদালত অবমাননা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ড্রপ সাইট লিখেছে, ইমরান খানের সরকার ওয়াশিংটনকে যা যা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, সামরিক সমর্থনপুষ্ট বর্তমান সরকার ক্ষমতায় বসে তা সরবরাহ করতে শুরু করে। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে পাকিস্তান গোপনে ইউক্রেনের কাছে গোলাবারুদ পাঠায়। ফাঁস হওয়া নথি থেকে জানা যায়, ওই অস্ত্রগুলো তৃতীয় দেশের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইউক্রেনে পাঠানো হয়েছিল। বিনিময়ে পাকিস্তান পরে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পায়
- ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে হত্যা করলে ৫৮ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার দেবে ইরান
- আরব দেশগুলোর অনুরোধে ইরানে নতুন হামলা স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের
- আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বাংলাদেশে জামাতিদের ‘চিড়বিড়ানি’ বেড়ে গেছে: শুভেন্দু অধিকারী