ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাম্প্রতিক মস্কো সফরের পর দেশটিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনায় রাশিয়ার ভূমিকা আবারও আলোচনায় এসেছে।
রাশিয়া স্পষ্ট জানিয়েছে, ইরান ইস্যুতে তারা সামরিক সমাধানের চেয়ে কূটনৈতিক উদ্যোগকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তাদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে এবং এর প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও।
মস্কোর অবস্থান অনুযায়ী, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে কোনো একতরফা নিষেধাজ্ঞা বা সামরিক পদক্ষেপ তারা সমর্থন করে না। একইসঙ্গে ইরানের ওপর নৌ অবরোধসহ যেকোনো বৈরী পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে রাশিয়া।
তবে রাশিয়া সরাসরি সামরিক সহায়তায় যাচ্ছে না। কৌশলগত দিক বিবেচনায় তারা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে আগ্রহী নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় করতে পারেনি। ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ সরাসরি সংঘাতে জড়াতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে, আর চীনও সামরিক পদক্ষেপের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান এই পরিস্থিতিকে নিজেদের পক্ষে কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, দেশটির অর্থনৈতিক সংকট ভবিষ্যতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে এবং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
রাশিয়ার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই; টেকসই সমাধান আসতে পারে দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই।