এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ :ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, উৎসবমুখর,শান্তিপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক নির্বাচন উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রায়হান কবির সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধ দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। জেলার একাধিক ভোটকেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ রায়হান কবির।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক ভোটগ্রহণ কার্যক্রমের সার্বিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভোটারদের উপস্থিতি, শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, “আমাদের কেবল ভোটকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেই হবে না। ভোটকেন্দ্রের প্রতি ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।তিনি সকল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রায়হান কবির বলেন, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।আপনারা আমাদের সাথে থাকেন সঠিক তথ্য দিয়ে। নির্বাচনের স্বার্থে আচরণবিধি লঙ্গন করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে সে যেই হউক।আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠ , অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধ দিয়ে কার্যক্রম চালাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের। এই নির্বাচনকে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের মাধ্যমে স্মরণীয় করে রাখতে হবে।
নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার প্রদানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নারীরা যেন ঠিকভাবে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।আগামী নির্বাচন অন্যান্য দায়িত্বের মতো নয়; বরং একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব। আমরা যদি ভালোভাবে এই দায়িত্বটি পালন করতে পারি, তাহলে আগামী নির্বাচনের দিনটি জনগণের জন্যও ঐতিহাসিক দিন হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলায় অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোট আয়োজনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ও জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোন ধরনের সহিংসতা সন্ত্রাস গুজব কিংবা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা কঠোর হাতে দমন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রায়হান কবির বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করা।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, আমরা এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চাই প্রশাসন কোনো ব্যক্তির পক্ষে নয় বরং সংবিধান আইন ও জনগণের পক্ষে থাকবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রশাসন কঠোর হতে চায় না কিন্তু কেউ যদি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পরিবেশ তৈরি করে তাহলে কঠোর হতে প্রশাসন বাধ্য হবে। ভোটকেন্দ্র থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, জেলার ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার যেকোনো চেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে। কেউ অস্ত্র দেখিয়ে প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারবে না।
তিনি আরো বলেন , নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যৌথ বাহিনীর নিয়মিত অভিযান শুরু হয়েছে। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী কিশোর গ্যাং এবং পেশাদার অপরাধীদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী শতভাগ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে নির্বাচনকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা করা হলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাই কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে যাচাই করার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানান তিনি।
ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার শান্তিপূর্ণ ও উৎসব মুখর ভাবে প্রয়োগ করবেন। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত পুলিশ আনসার ভিডিপি র্যাব ও অন্যান্য সহায়ক বাহিনী মোতায়েন থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।ভোট গ্রহণের আগের দিন থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী সময় পর্যন্ত নিরাপত্তা বলয় বজায় থাকবে। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন সেটিই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি আরো বলেন আমার দৃঢ় বিশ্বাস জেলার সকল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সবার সম্মিলিত উদ্যোগ পেশাদারিত্ব ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ জেলায় একটি অবাধ, শান্তিপূর্ণ নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জনগণের আস্থা অর্জন করেই এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায় প্রশাসন এমন প্রত্যয়ও ব্যক্ত করা হয়।