নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দরে র্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে চারজনকে আটক করেছে বন্দর থানা পুলিশ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে বন্দর থানার জাংগাল হাজী পার্কিং ও এসকিউ এলাকার সামনে পাকা সড়কে এ অভিযান চালানো হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. লিয়াকত আলীর নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) খায়রুল বাশার ও সঙ্গীয় ফোর্স চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালায়।
এসময় সন্দেহভাজন একটি হায়েস মাইক্রোবাস (রেজি. নং- ঢাকা মেট্রো-চ-১৩-৮০৪৬) আটক করা হয়। তল্লাশিকালে গাড়ি থেকে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।পুলিশ জানায়, মাইক্রোবাসটি তল্লাশি করে তাদের কাছ থেকে চারটি র্যাবের ব্যবহৃত জ্যাকেট, একটি কালো রঙের হ্যান্ডকাফ, একটি খেলনা সদৃশ ওয়াকিটকি, একটি সিগন্যাল লাইট, একটি ইলেকট্রিক শক যন্ত্র এবং দুটি স্কচটেপ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করে যে, তারা র্যাব পরিচয়ে বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই ও ডাকাতি সংঘটিত করে আসছিল।গ্রেফতারকৃতরা হলেন –
১. মো. আলমগীর হোসেন (৪২) – অবসরপ্রাপ্ত ল্যান্স কর্পোরাল, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী; পিতা: মৃত দলিল উদ্দিন খন্দকার; ঠিকানা: চররঘুনাথদ্দী, বাউফল, পটুয়াখালী।২. মো. মামুন সরকার (৪৩) – অবসরপ্রাপ্ত ল্যান্স কর্পোরাল, রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাস; পিতা: আব্দুল হক সরকার; ঠিকানা: আউলিয়াপুর, পটুয়াখালী সদর।
৩. মো. এনামুল হক (৩৩) – পিতা: মৃত আব্দুল কদ্দুস; ঠিকানা: গেরাবুনীয়া, আমতলী, বরগুনা।৪. মো. শফিকুল ইসলাম (৫৬) – পিতা: আনোয়ার আলী; ঠিকানা: রামনগর, বাউফল, পটুয়াখালী।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া র্যাব পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি’ আইনে মামলা দায়ের করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ওসি মোঃ লিয়াকত আলী বলেন, “এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ছিনতাই ও ডাকাতি করে আসছিল। তাদের গ্রেফতারের মাধ্যমে এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জোরদার হবে।”