April 19, 2026, 11:56 pm

আড়াইহাজারে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় গ্রেফতার হয়নি কেউ, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে শফর আলী (৩৮) নামে এক জনকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় করা মামলায় ৬ দিনেও কোনও আসামি গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এতে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী পরিবার।

পুলিশ বলছে,ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক। এজন্য এখনও কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। মামলার আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

তবে ভুক্তভোগীর স্বজনদের অভিযোগ, আসামিরা এলাকাতেই আছে। গত শুক্রবার দুপুরে তারা ভুক্তভোগীর বাড়িতে এসে প্রকাশ্যে মামলা প্রত্যাহারের হুমকি দেয়। অন্যথায় বাড়ির অন্যদেরও কুপিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে যায়। শুক্রবার সন্ধ্যায় বাড়িতে গেলে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যরা এসব অভিযোগ করেন।

শফর আলী উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের হাজিরটেক গ্রামের হাজী নুরুল ইসলামের ছেলে।গত ২৬ আগস্ট সোমবার ফজরের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র সশ্রে সজ্জিত হয়ে শফর আলীকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে মাথা,পিঠ,পায়ে ও ঘাড়সহ শরীরের একাধিক স্থানে জখম করে।

এ ঘটনায় গত শুক্রবার ভুক্তভোগীর ছোট ভাই মুফতি জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে একই গ্রামের আ. জাব্বারের ছেলে আউয়াল,আঃ হাই,বাতেন,মো.কাদির ও অন্যান্য আরো ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ১০-১২ জনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।

ভুক্তভোগীর ছোট ভাই মুফতি জহিরুল ইসলাম বলেন,সম্পত্তির সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিবেশী আউয়ালদের দীর্ঘদিনের পূর্ব বিরোধ ছিল। এরই রেশ ধরে ঘটনার সময় আউয়াল, আ.হাই ও বাতেন ধারালো দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ফজরের নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বের হওয়া শফর আলীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় হামলাকারীরা শফর আলীর বাড়িঘর ভাঙচুর করে নগদ ৪ লাখ টাকা, ২ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার এবং অন্যান্য মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় শফর আলীকে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ডাক্তার তাকে ঢামেক হাসপাতালে রেফার করেন। তিনি বর্তমানে মদনপুর বারাকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ভুক্তভোগী স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার ৬ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কোনও আসামিকে গ্রেফতার করেনি। আসামিরা মাঝেমধ্যে বাড়িতে এসে তাদের হুমকি দিলেও পুলিশ বলছে পলাতক। আসলে সবাই এলাকাতেই আছে। তারা বাড়িতে এসে মামলা প্রত্যাহারের হুমকি দেয়। অন্যথায় বাড়ির অন্য সদস্যদের কুপিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে গেছে। এমন ঘটনায় এখনও আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় এবং মামলা প্রত্যাহারের হুমকি দেওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্বজনরা।

এ বিষয়ে আড়াইহাজার থানার ওসি মোহাম্মদ আহসানউল্লাহ জানান, আসামিদেরকে গ্রেপ্তারের আপ্রাণ চেষ্টা করছে পুলিশ।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা