November 4, 2026, 9:09 am

সাজেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের মধ্যে নতুন করে ৪৮ ঘণ্টার পাল্টা কর্মসূচি

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে চলমান অনির্দিষ্টকালের অবরোধের মধ্যে নতুন করে ৪৮ ঘণ্টার পাল্টা অবরোধ শুরু হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) ভোর ৬টা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির নেতৃত্বে এ কর্মসূচি শুরু হয়।

অবরোধের সমর্থনে ভোর থেকেই সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা সাজেক-দীঘিনালা সড়কে অবস্থান নেন। এর আগে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সংগঠনটির সদস্য সচিব বিন্দু লাল চাকমার স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১১, ১৫ ও ২২ থেকে ৩১ অক্টোবর এবং সর্বশেষ ২ নভেম্বর থেকে চতুর্থ দফায় সাজেক সড়কে অবরোধ চলছে। দীর্ঘদিনের এ কর্মসূচিতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পর্যটনশিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সংগঠনটির দাবি, অবরোধের কারণে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে জুমচাষিরা উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে না পারায় সেগুলো নষ্ট হচ্ছে। পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় স্থানীয় মানুষের আয়-রোজগারও কমে গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও অভিযোগ করা হয়, আঞ্চলিক সশস্ত্র দলগুলোর প্রভাব ও চাপের কারণে জুমচাষিদের অবরোধে অংশ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের কারণে পাহাড়ের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ব্যাহত হচ্ছে।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি। একই সঙ্গে দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।

এদিকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে গত ২২ অক্টোবর থেকে তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। সাজেক থেকে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করছে সংগঠন দুটি। তাদের অভিযোগ, সশস্ত্র সদস্যদের উপস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অবরোধের কারণে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। দেখা দিয়েছে খাদ্যসামগ্রী ও ওষুধের সংকট। বন্ধ রয়েছে পর্যটন কার্যক্রমও।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গত ২৬ অক্টোবর উজো বাজারে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়। পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটি বিষয়ে সমঝোতা হলেও সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য না হওয়ায় অবরোধ প্রত্যাহার হয়নি।

এ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক পর্যটন ভ্যালিতে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন।

এই বিভাগের আরও খবর


কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আমির হামজার নির্বাচনী হলফনামা, আয়কর রিটার্ন ও আর্থিক তথ্যে একাধিক অসংগতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন মোঃ সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। gnewsদৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া ওই আবেদনে আমির হামজার নগদ অর্থ, ব্যাংক জমা, কৃষিজমি, আবাসিক প্লট, স্ত্রীর সম্পদ, বাড়িভাড়া, মোটরযান, পারিবারিক ব্যয় ও নির্বাচনী ব্যয়ের তথ্য নিয়ে বিভিন্ন অসংগতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, ৩০ জুন ২০২৫ তারিখের আয়কর রিটার্নে আমির হামজার ব্যাংক ব্যালেন্স শূন্য দেখানো হলেও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির কুষ্টিয়া শাখায় তাঁর একটি হিসাবে ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৭ টাকা জমা ছিল। এ ছাড়া নির্বাচনী হলফনামায় নগদ অর্থের পরিমাণ ২ লাখ ৪৫ হাজার ১৭০ টাকা দেখানো হলেও আয়কর রিটার্নে দেখানো হয়েছে ৩৮ লাখ ৪৫ হাজার ১৭০ টাকা। এতে ৩৬ লাখ টাকার পার্থক্য রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনে আরও বলা হয়, আমির হামজা প্রতি শুক্রবার আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এক লাখ টাকা এবং বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্মানী পান বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব আয়ের তথ্য নির্বাচনী হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন আবেদনকারী। তাঁর দাবি, আয়কর রিটার্নে বার্ষিক আয় ৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে, যার পুরোটাই হামজা এন্টারপ্রাইজের কাপড় ও বইয়ের ব্যবসা থেকে এসেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনে আমির হামজার ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য হলফনামায় উল্লেখ না করা এবং তাঁর স্ত্রীর আয়কর রিটার্নের তথ্য প্রকাশ না করার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। কৃষি সম্পত্তির তথ্যেও অসংগতির অভিযোগ করা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, হলফনামায় আমির হামজার কৃষিজমির মূল্য ১১ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ টাকা দেখানো হলেও আয়কর রিটার্নে তা ১৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ টাকা উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রীর কৃষিজমির পরিমাণ হলফনামায় ১২ কাঠা বা ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ দেখানো হলেও আয়কর রিটার্নে ১২০ শতাংশ জমির তথ্য রয়েছে। দুই নথিতে জমির মূল্যেও ১৫ লাখ টাকার পার্থক্য রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর নিবন্ধিত ৬৪৯৮ নম্বর দলিলে আমির হামজার স্ত্রী ১৭ দশমিক ১১ শতাংশ জমি কিনেছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জমিটির মূল্য ৬ লাখ টাকা এবং তাঁর স্ত্রীর অংশের মূল্য ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৪০০ টাকা। আবেদনকারীর অভিযোগ, এই সম্পত্তির তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি। আবেদনে কুষ্টিয়া শহরের রাহিনী মৌজায় আমির হামজার নিজ নামে ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ জমির একটি আবাসিক প্লট থাকার কথাও বলা হয়েছে। ২০১৪ সালে কেনা ওই জমির বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ টাকা বলে দাবি করেছেন আবেদনকারী। তবে হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে এ সম্পত্তির তথ্য নেই বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া স্ত্রীর নামে দেখানো বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বাড়িভাড়ার আয়, ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৯-১৭৫৭ নম্বরের গাড়ি, ১১৬ দশমিক ৬৪ গ্রাম স্বর্ণ এবং পাঁচতলা ভবন ও জমির মূল্যায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারী। তাঁর দাবি, গাড়িটির মূল্য হলফনামায় ২৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা দেখানো হলেও আয়কর রিটার্নে এর তথ্য নেই। একইভাবে আয়কর রিটার্নে ১০ ভরি স্বর্ণের তথ্য থাকলেও নির্বাচনী হলফনামায় তা উল্লেখ করা হয়নি। নির্বাচনী ব্যয় নিয়েও অভিযোগ করেছেন সিরাজুল ইসলাম। আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী বিভিন্ন খাতে ৩৪ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন পরিচালনার ব্যাংক হিসাব থেকে আরও ৩৮ লাখ টাকা নগদ উত্তোলন করা হয়। সব মিলিয়ে নির্বাচনী ব্যয় ৭২ লাখ টাকা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এ ব্যয় নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি কি না, তা তদন্ত করে দেখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া হলফনামায় বার্ষিক পারিবারিক ব্যয় ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৭৬০ টাকা দেখানো হলেও চালকের বেতন, ইউটিলিটি বিল ও সন্তানদের শিক্ষাব্যয় যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পাঁচতলা ভবন ও জমির সম্মিলিত মূল্য ১ কোটি ৬৮ লাখ ৭৩ হাজার ১৮৩ টাকা দেখানো নিয়েও আপত্তি তুলেছেন আবেদনকারী। আবেদনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচিত প্রার্থীর হলফনামা বা আয়-ব্যয়ের বিবরণীতে অসংগতি কিংবা মিথ্যা তথ্য পাওয়া গেলে নির্বাচন কমিশন তদন্ত করতে পারে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী প্রার্থিতা ও নির্বাচন বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনকারী এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চল, বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, যানবাহন নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ এবং ভূমি ও নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের নথিপত্র যাচাইয়ের অনুরোধ জানিয়েছেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় মূল দলিল উপস্থাপন করে তদন্তে সহযোগিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আবেদনকারী সিরাজুল ইসলাম ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে বর্তমানে তিনি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী এবং রাজনীতির সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, আমি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে মনে করছি, সংসদ সদস্যের নির্বাচনী হলফনামায় বিভিন্ন জায়গায় আর্থিক তথ্যের অসংগতি রয়েছে। এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তিনি একজন আলেম মানুষ। তার কাছ থেকে এমনটি প্রত্যাশা করিনি। এ কারণে আমি অভিযোগ করেছি। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য আমির হামজার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ফেসবুকে আমরা