October 3, 2026, 9:25 am

বক্তব্য রাখছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

অনলাইনে বিয়ে-তালাক নিবন্ধন, গোপন বিয়ে ও বাল্যবিবাহ ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ

দেশের বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থা ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তথ্য গোপন করে একাধিক বিয়ে এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সহায়তা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে অনলাইনে তালাক ও নিকাহ নিবন্ধন সফটওয়্যারের ব্যবহার বিষয়ক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে অনলাইনে নিবন্ধিত বিবাহের তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে দেশের সব কাজীকে ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থার আওতায় আনতে পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, অনলাইনে বিবাহ ও তালাকের তথ্য সংরক্ষিত থাকলে কোনো ব্যক্তি আগে কোথাও বিয়ে করেছেন কি না, তা সহজেই যাচাই করা সম্ভব হবে। কেউ আগের বিয়ের তথ্য গোপন করে অন্যত্র বিয়ে করতে চাইলে অনলাইনেই তার পূর্ববর্তী বিবাহের তথ্য পাওয়া যাবে। ফলে আগের স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ের নিবন্ধনের বিষয়টিও যাচাই করা সম্ভব হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য এনআইডি, জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারের সঙ্গে যুক্ত হলে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ প্রতিরোধে কার্যকর সহায়তা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বৈবাহিক অবস্থাও যাচাই করা সহজ হবে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার স্ত্রী বা সন্তানদের পক্ষ থেকে একাধিক দাবি উঠলে নিবন্ধিত বিবাহের তথ্য দেখে প্রকৃত বিষয়টি যাচাই করা যাবে। এতে এ ধরনের বিরোধ নিয়ে মামলা-মোকদ্দমার সংখ্যা কমতে পারে এবং রাষ্ট্রের ওপরও চাপ কমবে।

বিদেশে থাকা বা বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও ডিজিটাল বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য কাজে আসবে বলে জানান আইনমন্ত্রী। কোনো ব্যক্তি বিদেশে গিয়ে তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষ অনলাইনে বিবাহের তথ্য যাচাই করতে পারবে। এতে বৈবাহিক সম্পর্কের তথ্য দ্রুত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এদিকে ঢাকার সাব-রেজিস্ট্রারদের দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার প্রবণতা কমাতে লটারির মাধ্যমে পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ঢাকার সাব-রেজিস্ট্রারদের দীর্ঘদিন একই জায়গায় থাকায় বদলির ক্ষেত্রে বিভিন্ন দিক থেকে তদবির আসে। এ পরিস্থিতি এড়াতে ঢাকা শহরের মধ্যে সাব-রেজিস্ট্রারদের পদায়ন লটারির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নিয়মনীতি অনুসরণ করেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা