October 3, 2026, 9:25 am

ফিটনেসবিহীন গাড়ি স্ক্র্যাপের সময়সীমা ১ বছর থেকে বেড়ে ৫ বছর

ফিটনেসবিহীন গাড়ি স্ক্র্যাপ বা বাতিল করার ক্ষেত্রে সময়সীমা এক বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করেছে সরকার। ফলে যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কোনো গাড়ি এক বছরের বেশি সময় ফিটনেসবিহীন থাকলেই সেটি স্ক্র্যাপযোগ্য হবে না। পাঁচ বছরের বেশি সময় ফিটনেসবিহীন থাকলে গাড়িটি স্ক্র্যাপের আওতায় আসবে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ‘মোটরযান স্ক্র্যাপিং ও রিসাইক্লিং নীতিমালা, ২০২৬’ জারি করে। এর মাধ্যমে চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি জারি করা আগের নীতিমালা রহিত করা হয়েছে। নতুন নীতিমালায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি স্ক্র্যাপের সময়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি স্ক্র্যাপিং প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে সময় কমানো হয়েছে।

আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই পরিবর্তন

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আনিসুর রহমান বলেন, নতুন নীতিমালায় আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কয়েকটি বিষয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে এক বছরের বেশি সময় ফিটনেসবিহীন থাকলে গাড়ি স্ক্র্যাপ করার সুযোগ ছিল। এখন সেই সময়সীমা বাড়িয়ে পাঁচ বছর করা হয়েছে।

তিনি জানান, নতুন নীতিমালায় নিলামের পাশাপাশি স্ক্র্যাপিংয়ের বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। নির্ধারিত ভেন্ডর না পাওয়া গেলে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে স্ক্র্যাপিংয়ের কাজে যুক্ত করা যাবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চাইলে নিজস্ব ব্যবস্থাপনাতেও এ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

স্ক্র্যাপিং প্রক্রিয়ায় কমেছে সময়

ফিটনেসবিহীন গাড়ি স্ক্র্যাপযোগ্য হওয়ার সময় বাড়ানো হলেও স্ক্র্যাপিং প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে সময় কমানো হয়েছে। পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো স্ক্র্যাপযোগ্য গাড়ি আটক করলে মালিককে নোটিশ দেওয়ার সময় ৩০ দিন থেকে কমিয়ে ১৫ দিন করা হয়েছে।

এ ছাড়া স্ক্র্যাপিংয়ের সময় ৩০ কার্যদিবস থেকে কমিয়ে ১৫ কার্যদিবস এবং স্ক্র্যাপিং শেষ হওয়ার পর সার্টিফিকেট দেওয়ার সময় ৩০ দিন থেকে কমিয়ে সাত দিন করা হয়েছে।

যেসব গাড়ি স্ক্র্যাপের আওতায় আসবে

শুধু দীর্ঘদিন ফিটনেসবিহীন গাড়িই নয়, অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল (Economic Life) শেষ হয়ে যাওয়া, চলাচলের অনুপযোগী, দুর্ঘটনা বা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অর্থনৈতিকভাবে মেরামতের অযোগ্য, অননুমোদিতভাবে উৎপাদিত বা পরিবর্তিত এবং নির্ধারিত মাত্রার বেশি দূষণকারী গাড়িও স্ক্র্যাপের আওতায় আসবে।

স্ক্র্যাপিংয়ের সময় গাড়ির চেসিস ও ইঞ্জিন নম্বর এমনভাবে নষ্ট করার বিধান রয়েছে, যাতে সেগুলো অন্য কোনো গাড়িতে পুনরায় ব্যবহার করা না যায়। স্ক্র্যাপিং শেষে গাড়িটির নিবন্ধন বাতিল করে মালিককে ‘ভেহিক্যাল স্ক্র্যাপিং সার্টিফিকেট’ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সময় বাড়ানো নিয়ে উদ্বেগ

ফিটনেসবিহীন গাড়ি স্ক্র্যাপের সময়সীমা এক বছর থেকে পাঁচ বছর করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, সময়সীমা বাড়ানোর ফলে পরিবহন মালিকদের দীর্ঘদিন ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে এসব গাড়ি সড়কে চলাচলের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সময়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি স্ক্র্যাপিংয়ের পুরো প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও কাঠামোবদ্ধ করা হয়েছে। ভেন্ডর না থাকলে সরকারি প্রতিষ্ঠান বা বিআরটিএকে কাজে যুক্ত করার সুযোগ এবং নিলাম ও দ্রুত সার্টিফিকেট দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা