September 24, 2026, 7:35 am

বোয়িংয়ের পর এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনার ইঙ্গিত

মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে নতুন করে ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্রান্সের এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের লবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, দেশের এভিয়েশন খাত সম্প্রসারণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বাংলাদেশে নতুন নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে উড়োজাহাজের প্রয়োজন আরও বাড়বে।

তিনি বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজন দেখা দিলে এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা করা হতে পারে। বোয়িংয়ের একটি প্রতিনিধিদল পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, সফরের দ্বিতীয় দিনে স্বাস্থ্য, কৃষি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে সহযোগিতা বাড়ানো, কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে জাতিসংঘের সম্মেলনের ফাঁকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। পাশাপাশি মিয়ানমারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় এ সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়ছে। তাই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকের বিষয়েও জানান মাহদী আমিন। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান। এছাড়া ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। প্রয়োজনে বন্ধুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সংলাপের সুযোগ তৈরিতে বাংলাদেশ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার রয়েছে। চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি, বাণিজ্য ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওপর যে প্রভাব পড়ছে, তা বিবেচনায় নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আলোচনায় তুলে ধরা হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে মাহদী আমিন জানান, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন। নদী-খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, নবায়নযোগ্য ও সৌর জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন ও ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় উভয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট দেশ ও অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে মিয়ানমারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পথ খোলা রাখা হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, কূটনীতিতে সব দরজা ও বিকল্প খোলা রাখতে হয়। তাই আলোচনার পথ কখনো বন্ধ করা যাবে না।

প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের জাতিসংঘ সফরের আরও দুই দিনের কর্মসূচি রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামীকাল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বাংলায় বক্তব্য দেবেন।

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর, শামা ওবায়েদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা