September 14, 2026, 5:08 pm

বাঘা চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি : সংগৃহীত

বাঘার ১৫ চরে ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী, বন্ধ ৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের পদ্মা নদীবেষ্টিত ১৫টি চরের প্রায় ২০ হাজার মানুষ এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকে পড়ায় ব্যাহত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকায় ছয়টি সরকারি প্রাথমিক ও দুটি উচ্চ বিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য এ ছুটি কার্যকর হয়েছে। তবে বিদ্যালয়গুলোর দাপ্তরিক কার্যক্রম চালু রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, পদ্মার পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। বন্যার পানিতে আতারপাড়া, চৌমাদিয়া, দিয়াড়কাদিপুর, উত্তর ও দক্ষিণ কালিদাসখালী, পশ্চিম ও পূর্ব চকরাজাপুর, দাদপুর, পলাশি ফতেপুর, নিচ পলাশি ফতেপুর, জোতাশী, লক্ষ্মীনগর, কালিদাসখালী, আমবাগান ও কলাবাগানসহ বিভিন্ন এলাকার ফসলের মাঠ তলিয়ে গেছে। গবাদিপশু নিয়েও চরম সমস্যায় পড়েছেন চরবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও পলাশি ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সুযোগ না থাকায় জেলা শিক্ষা অফিসের নির্দেশে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস বিদ্যালয় দুটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

একই কারণে চৌমাদিয়া, আতারপাড়া, পশ্চিম চর কালিদাসখালী, পলাশি ফতেপুর, লক্ষ্মীনগর ও চর কালিদাসখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে পলাশি, চকরাজাপুর ও পূর্ব চকরাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যাকবলিত না হওয়ায় সেখানে স্বাভাবিকভাবে পাঠদান চলছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীর মামুনুর রহমান বলেন, পদ্মার চরে থাকা নয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ছয়টিতে শিক্ষার্থীদের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি তিনটি বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাফর আলী বলেন, চকরাজাপুর ও পলাশি ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয় বন্ধ রাখার বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে।

চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাসান সিকদার বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে পানির মধ্যে বসবাস করছি। ঘর থেকে বাইরে বের হতে পারছি না। ঘরের মধ্যে মাচা করে বসবাস করছি। এমন অবস্থায় কীভাবে স্কুলে যাব? তাই স্যারেরা স্কুল ছুটি দিয়েছেন।’

চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক সোহেল রানা বলেন, শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু পানির কারণে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে পারছে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষা কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চরাঞ্চলের মানুষ চরম দুর্দশার মধ্যে বসবাস করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

চরাঞ্চলের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের সামর্থ্যবান ও সুহৃদ ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা