September 11, 2026, 4:53 pm

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।ছবি: সংগৃহীত

খসড়া সাইবার সুরক্ষা আইনে মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্নের আশঙ্কা টিআইবির

খসড়া সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ অনুমোদন করা হলে জনগণের মৌলিক অধিকার, বাক্-স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে খসড়াটি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের মতামত এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার আলোকে নতুন করে পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত আইনে সাইবার অপরাধ, সাইবার সুরক্ষা ও মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতো তিনটি পৃথক বিষয়কে একই কাঠামোর মধ্যে রাখা হয়েছে। এতে কোনো বিষয়ই যথাযথ গুরুত্ব পায়নি; বরং অপব্যাখ্যা ও অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তার মতে, সাইবার অপরাধ ও সাইবার সুরক্ষার পাশাপাশি সাইবার জগতে মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণের বিষয় যুক্ত করা আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এর ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

টিআইবি বলছে, খসড়া আইনে ‘গুজব’, ‘অপতথ্য’, ‘হেয়প্রতিপন্ন’, ‘মানহানিকর’ ও ‘রাষ্ট্রের জন্য অবমাননাকর’-এর মতো কয়েকটি ধারণার যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো অস্পষ্ট। ফলে এসব বিধানের ইচ্ছামতো ব্যাখ্যা ও লক্ষ্যভিত্তিক অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে বিশেষ করে বাক্-স্বাধীনতা ও মৌলিক মানবাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

‘যৌন হয়রানি’ ও ‘সেক্সটর্শন’-এর সংজ্ঞা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে সংস্থাটি। টিআইবির দাবি, এসব সংজ্ঞা অসম্পূর্ণ হওয়ায় প্রকৃত অপরাধ আড়াল হওয়ার পাশাপাশি ভুক্তভোগীর অধিকার ক্ষুণ্ন এবং অভিযুক্তের সুরক্ষার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

খসড়া আইনের ধারা ৪৬(২)-এ ধারা ২৩-এর অপরাধকে অ-জামিনযোগ্য করার প্রস্তাব নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে টিআইবি। সংস্থাটির মতে, ধারা ২৩-এ দেশের অখণ্ডতা, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার পাশাপাশি ‘বৈদেশিক কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক’ এবং ‘বৈদেশিক কোনো রাষ্ট্র বা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সুবিধার্থে’-এর মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু এসব বিষয়ের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় অপব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে।

জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের প্রস্তাবিত কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে টিআইবি। খসড়ায় প্রধানমন্ত্রীসহ ২৮ সদস্যের কাউন্সিল গঠনের কথা বলা হলেও বেসরকারি পর্যায়ের তথ্যপ্রযুক্তি ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ হিসেবে মাত্র দুজনকে রাখার প্রস্তাব রয়েছে। তারাও সরকারের মনোনীত হবেন। ফলে কাউন্সিলটি সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

টিআইবি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে স্বাধীন ও দলনিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠনের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা সরকারের পরিবর্তে স্বাধীন কাউন্সিলের ওপর ন্যস্ত করার প্রস্তাব করেছে।

এ ছাড়া কাউন্সিলের সদস্যসহ আইনের অধীনে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘সরল বিশ্বাসে’ করা কর্মকাণ্ডের জন্য ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা থেকে দায়মুক্তির প্রস্তাবেরও বিরোধিতা করেছে টিআইবি।

ড. ইফতেখারুজ্জামানের ভাষ্য, এ ধরনের দায়মুক্তি ‘আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান’ নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। খসড়া আইনটি যথাযথভাবে সংশোধন না করে অনুমোদন করা হলে সাইবার স্পেসে নজরদারি, জবাবদিহিহীনতা ও নিপীড়নের সুযোগ বাড়তে পারে। পাশাপাশি ভিন্নমত দমন ও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকিও তৈরি হবে।

বিবৃতির শেষে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে সব নাগরিকের সাইবার সুরক্ষার অঙ্গীকারের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে টিআইবি।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা