April 19, 2026, 9:41 am

মতলব সরকারি হাসপাতালে ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের দালালদের উৎপাত

মতলব প্রতিনিধিঃ মতলব দক্ষিণ উপজেলার ৫০শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালে স্থানীয় ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের নিয়োগপ্রাপ্ত দালালদের উৎপাত লক্ষ করা গেছে। তারা বেশ কয়েকদিন ধরে হাসপাতালের আউটডোরে ঢুকে ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে অধিক মুনাফার আশায় রোগীদের টানা হেচড়া করে যার যার মত বিভিন্ন ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ও প্যাথলোজিতে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে আউটডোর ডাক্তারদের নেই কোন মাথা ব্যাথা। মতলব সরকারি হাসপাতালের অভিমুখে প্রায় ৭/৮টি ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ও প্যাথলোজি রয়েছে। এক এক প্রতিষ্ঠানের মালিক আড়াআড়ি করে কিছু বহিরাগত লোক বেতন দিয়ে নিয়োগ করে হাসপাতালে আউটডোরে পাঠায়। দুরদুরান্ত থেকে আসা রোগীরা বের হলে তারা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাদের নিজস্ব ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ও প্যাথলোজিতে নিয়ে যায়।
সরো জমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের ডাক্তারদের সাথে অনেক মালিক পক্ষের সাথে সম্পর্ক রয়েছে। আউটডোর মেডিক্যাল অফিসারদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। মেডিক্যাল অফিসার নিগার সুলতানা’র চেম্বারে গেলে দেখা যায় দু’জন দালাল বসে রয়েছে। তার চেম্বারে টাকার বিনিময় প্রেসক্রিপশন করতে লক্ষ্য করা গেছে। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে অনেক দালালরা সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে মেডিক্যাল অফিসার রিয়া সুলতানা বলেন, আমি প্রেসক্রিপশন করছি তবে ভিজিট নিবো না। তবে আমাকে জিজ্ঞেস করে ছবি তোলা প্রয়োজন ছিল।
আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার রাজিব কিশোর বনিক বলেন, দালালদের কে আমরা নিষেধ করা সত্ত্বে ও তারা ঢুকে পড়ে।
উপজেলা স্বাস্থ্য প.প. কর্মকর্তা গোলাম কাউছার হিমেল বলেন, এ সমস্ত দালালদের কে ধরে থানায় সপর্দ করেছি। তারপরও তারা এ রকম করছে।
মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ মহিউদ্দিন মিয়া বলেন, আমার লোকজন গিয়ে দালালদের কয়েকবার ধরেছে। হাসপাতালে না ডুকার মলিকপক্ষকেও বলা হয়েছে। তারপরও বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক ও প্রাক্তন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: এ.কে.এম মাহাবুবুর রহমান বলেন, মতলব সরকারি হাসপাতালে মহিলা দালালে ভরপুর। আমিও তো দায়িত্বে ছিলাম কিন্তু আমার সময়ে এমন দালালের উৎপাত ছিলো না।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা