April 19, 2026, 9:42 am

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে: তথ্য উপদেষ্টা

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দেশে জ্বালানি তেলের দামে সমন্বয় আনার প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি সামনে আসতে পারে।

তিনি আরও বলেন, “দাম আসলে বাড়বে কি না তা নিশ্চিত নয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে এবং সংকট দীর্ঘ হলে দীর্ঘ সময় ভর্তুকি দিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।”

তথ্য উপদেষ্টা জানান, এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেই। তবে পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে।

সরবরাহ পরিস্থিতি ও রিফাইনারি সংকট

জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন ঘটায় সরবরাহে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। এ রিফাইনারি থেকে দেশের প্রায় ২৫ শতাংশ জ্বালানি তেল, বিশেষ করে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ হয়।

তিনি আরও জানান, সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন জ্বালানি তেলের একটি চালান নির্ধারিত সময়ে না পৌঁছানোয় চাপ আরও বেড়েছে। তবে নতুন একটি চালান মে মাসের শুরুতে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

সংকটের আশঙ্কা ও সরকারি প্রস্তুতি

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে মজুদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং রিফাইনারি কিছু সময়ের জন্য বন্ধ থাকলেও বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই।

তিনি বলেন, সরকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও মজুদ বাড়িয়েছে। পাশাপাশি আগাম প্রস্তুতি হিসেবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বাজার পরিস্থিতি ও ভোক্তা চাহিদা

তিনি আরও জানান, রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পে অতিরিক্ত ভিড় দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একই যানবাহন একাধিকবার জ্বালানি নিচ্ছে বা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল সংগ্রহ করছে, যার ফলে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

একটি দৈনিক পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, কোনো কোনো পেট্রোল পাম্পে চার ঘণ্টার মধ্যেই দিনের স্বাভাবিক বিক্রি শেষ হয়ে যাচ্ছে।

তথ্য উপদেষ্টা জানান, পেট্রোল পাম্পে সরবরাহ কমানো হয়নি, তবে অতিরিক্ত চাহিদার কারণে দ্রুত মজুদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। শিগগিরই পাম্পভিত্তিক সরবরাহের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা