সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের জারুলিয়া গ্রামে বিদ্যুতের তার থেকে আগুন লেগে ১৪টি পরিবারের বসতঘর ও আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনে নিঃস্ব হয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।
সোমবার সন্ধ্যায় গ্রামটিতে বিদ্যুতের তার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের বাড়িঘরে ছড়িয়ে পড়লে পুরো গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দিরাই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর আগেই ১৪টি পরিবারের বসতঘর, আসবাবপত্র, ধান-চাল, গবাদিপশু ও নগদ টাকাসহ সবকিছু পুড়ে যায়। সর্বস্ব হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।
খবর পেয়ে সোমবার রাতেই সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর প্রতিনিধি এবং দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব না হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের মাধ্যমে তা নির্ধারণের কথা জানানো হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক অশোক তালুকদারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পুড়ে যাওয়া বসতঘরগুলো ঘুরে দেখেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের সদস্য সোহেল তালুকদার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি সজীব রশিদ চৌধুরী, দিরাই উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সাবেক সদস্যসচিব বিষ্ণুপদ সরকার, সদস্য কবিন্দ্র দেবনাথ, বিকাশ দাস ও দীজেন্দ্র সরকার প্রমুখ।
অশোক তালুকদার বলেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন মিলন, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল এবং জেলা বিএনপির স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল হকের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সহমর্মিতা জানাতে তারা ঘটনাস্থলে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা দেওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি। তাঁর ধারণা, আগুনে ১৪টি পরিবারের প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার বলেন, সোমবার (২ নভেম্বর) আগুন লাগার খবর পেয়ে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধিসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারকে ৫০০ কেজি করে চাল, শুকনো খাবার ও কম্বল দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় এনজিও সংস্থা ব্র্যাকের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ১৪টি পরিবারকে সহায়তা হিসেবে এক লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :