আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা এলাকায় পোশাক কারখানার সামনে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী একটি লরিতে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জামগড়া চৌরাস্তা এলাকায় প্রীতি কম্পোজিট নিট লিমিটেডের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে শুরু হয় ছোটাছুটি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হঠাৎ বিকট শব্দে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কারখানার অন্তত তিনটি ভবনের জানালার কাঁচ ভেঙে যায়। আতঙ্কে কারখানা থেকে বের হতে গিয়ে কয়েকজন শ্রমিক আহত হন।
এ সময় বিস্ফোরিত একটি গ্যাস সিলিন্ডার ছিটকে কারখানার সামনের একটি টিনশেড দোকানে গিয়ে পড়ে। এতে দোকানে থাকা এক নারী নিহত হন।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘হঠাৎ বিকট শব্দে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। শব্দটি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ।’
ঘটনার সময় কারখানার ভেতরে থাকা এক পোশাকশ্রমিক জানান, তারা তখন আটতলায় কাজ করছিলেন। আগুন দেখতে পেয়ে দ্রুত কারখানা থেকে বাইরে বের হয়ে আসেন।
পরে কারখানার বাইরে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী লরিতে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। কারখানার নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ দল প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। খবর পেয়ে জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে যোগ দেয়। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ঢাকা জোন-৪-এর উপ-সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ঘটনাস্থলে গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। সিলিন্ডারগুলো থেকে অবশিষ্ট গ্যাস অপসারণের কাজ চলছিল।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে সার্চ করে আরও কোনো হতাহত রয়েছে কি না, তা দেখা হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি সিলিন্ডার গ্যাসমুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্ঘটনার পর আহত ১৪ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত পাঁচজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারকাজ শেষে ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ করছেন।