September 21, 2026, 6:06 am

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে পুলিশের বক্তব্য নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ, নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের দেওয়া বক্তব্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পুলিশের প্রেস ব্রিফিংকে ‘প্রহসনমূলক’ ও অস্পষ্ট দাবি করে চার দফা দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তারা।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের দেওয়া প্রেস ব্রিফিংয়ে তদন্তের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য তুলে ধরা হয়নি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আগে ঘোষিত চার দফা দাবির বিষয়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট অবস্থান জানানো হয়নি। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন।

শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সবার শাস্তি নিশ্চিত করা; প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার এবং আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার; বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি করা এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধারে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন করা।

ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম ভূঁইয়া বলেন, দুপুর ১২টায় পুলিশের ব্রিফিং হওয়ার কথা থাকলেও তা বেলা দুইটায় অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেখানে শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসনের কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর দাবি, রোববার সন্ধ্যায় আনাস নামে এক ব্যক্তিকে আটকের তথ্য জানা গেলেও প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার তা অস্বীকার করেন। এতে পুরো তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল বলেন, গ্রেপ্তার তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাসকে আটকের খবর পাওয়া গেলেও পুলিশ ব্রিফিংয়ে তাকে আটক করার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়ে থাকলে কেন ছাড়া হলো, সে বিষয়েও কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে আরেক আসামি সিয়ামের বয়স নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নাজমুল। তাঁর দাবি, সিয়াম দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়লেও তার বয়স ১৫ বছর দেখানো হয়েছে। তবে ফেসবুকে থাকা তথ্য অনুযায়ী তার বয়স ২০ বছর বলে দাবি করেন তিনি।

নাজমুল আরও বলেন, অপ্রতিম আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল বলে তারা জানতে পেরেছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত চললেও পুলিশ নতুন কোনো তথ্য কিংবা আসামির স্বীকারোক্তির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে পারেনি। তদন্তে আরও সময় লাগবে পুলিশের এমন বক্তব্যে সন্তুষ্ট না হয়ে চার দফা দাবি আদায়ে আবারও আন্দোলনে নামছেন শিক্ষার্থীরা।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা