সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তাঁদের আটক করা হয়েছে।
রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগের ভিত্তিতে গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। নিহত মরিয়ম খাতুনের বাবা বাদী হয়ে মামলাটি করবেন। পুলিশ হেফাজতে থাকা এমপি ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে।
গাজী নজরুল ইসলাম সংসদ সদস্য হওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে। এসব প্রক্রিয়া সোমবারের মধ্যে সম্পন্ন হলে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে পল্লবী থানায় দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মামার করা হত্যাচেষ্টা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছিলেন নজরুল ইসলাম। গতকাল তিনি ঢাকার আদালতে জামিননামা দাখিল করেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হলে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইবেন তিনি।
পুলিশ জানায়, ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলায় ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে এমপি নজরুল ইসলাম স্ত্রীসহ বসবাস করেন। রোববার সন্ধ্যায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষের জানালা দিয়ে মরিয়ম খাতুনকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।
ন্যাম ভবনের এক নিরাপত্তাকর্মী বিষয়টি শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে আলামত সংগ্রহের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়। তাদের উপস্থিতির আগে কক্ষে প্রবেশ করেনি থানা পুলিশ।
রাত ১০টার দিকে মরিয়ম খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, ন্যাম ভবনের এক নিরাপত্তাকর্মীর কাছ থেকে খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এমপির দ্বিতীয় স্ত্রীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গাজী নজরুল ইসলাম। এর পর গত জুলাইয়ে মগবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে ধারণ করা তাঁর ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে ১৯ বছর বয়সী মরিয়ম খাতুনকে তাঁর সঙ্গে দেখা যায়।
পরবর্তীতে নজরুল ইসলাম জানান, মরিয়ম তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। এ ঘটনার পর ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্পিকার, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি দেয় দলটি।