August 30, 2026, 8:52 pm

প্রত্যাশিত”রত্নাই সেতু”র উদ্বোধন,দুই জেলার মানুষের সহজ যাতায়াত

লালমনিরহাট প্রতিনিধি :

দীর্ঘ আট বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলো লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট এলাকায় রত্নাই নদীর ওপর নির্মিত বহুল প্রত্যাশিত রত্নাই সেতু।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে লালমনিরহাট-ফুলবাড়ী সড়কের ৮ম কিলোমিটারে নবনির্মিত ১৩০ দশমিক ৮৫ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতুটির উদ্বোধন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের আয়োজনে “সেতু” উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ দুই জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

সেতুটি চলমান হওয়ায় লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ কমবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের। কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী,নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী সহ লালমনিরহাট সদর উপজেলার মানুষের যাতায়াত ব্যাবস্থা সহজ হবে।সেই সাথে-সময় ও পরিবহনের ব্যয় কমার পাশাপাশি কৃষিপণ্য ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন সহ ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০১৮ইং সালের ৩ জুন ফুলবাড়ী-ধরলা সেতু উদ্বোধনের পর ছোট ও হালকা যানবাহনে সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ হলেও রত্নাই নদীর ওপর থাকা পুরাতন জরাজীর্ণ বেইলি সেতুর কারণে বড় ও পণ্যবাহী যানবাহনে চলাচলে ছিল সীমাবদ্ধতা। ফলে কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে যানবাহনগুলোকে “রত্নাই সেতু”ব্যাতিরেখে কুড়িগ্রাম হয়ে বিকল্প পথে বাধ্য হয়ে ঘুরে যেতে হতো।তাতে করে গন্তব্যভেদে অতিরিক্ত প্রায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হতো। নতুন রত্নাই সেতু চালু হওয়ায় এবার বড় ও পণ্যবাহী যানবাহনও সরাসরি চলাচলের সুযোগ পাবে।সে কারনে দীর্ঘ সময় পথের পাশাপাশি কমে যাবে সময় ও পরিবহন ব্যয়।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধানে ২১ কোটি টাকা ব্যায়ে রত্নাই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। এর দৈর্ঘ্য ১৩০ দশমিক ৮৫ মিটার এবং প্রস্থ ১০ দশমিক ৫ মিটার। ‘প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড কংক্রিট অ্যান্ড স্টিল টেকনোলজি’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করেছে।

২০২২ ইং সালের (১৫ই ডিসেম্বর)সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়,
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ইনচার্জ এস. এম. রিয়াজ মোর্শেদ জানায়,জমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে নির্মাণকাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে দ্রুতগতিতে কাজ শেষ করা হয়েছে। উদ্বোধনের পর মূল সেতুর রেলিংয়ের কিছু কাজ সম্পন্ন করা হবে।

লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দেবাশীষ সাহা জানায়,সেতুর মূল কাজ ইতোমধ্যে শেষ,সংযোগ রং ও রেলিংয়ের কিছু কাজ রয়েছে, যা স্বল্প সময়ে সম্পূর্ণ করা হবে।

“রত্নাই”সেতুটি চালু হওয়ায় শুধু পণ্য পরিবহন নয়, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের যাতায়াতে স্বস্তি আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।সল্প সময়ে যাতায়াতের পাশাপাশি কৃষিপণ্য সহ অন্যান্য পণ্য পরিবহনে ব্যায় কমে আসবে। দুই জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে প্রত্যাশা সকলের।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা