চট্টগ্রামের প্রাণ হিসেবে পরিচিত কর্ণফুলী নদী বর্তমানে দখল, দূষণ ও অপরিকল্পিত ভরাটের কারণে সংকটে রয়েছে। নদীটি ঘিরে গড়ে উঠেছে চট্টগ্রাম বন্দর, শিল্পাঞ্চল ও নগর অর্থনীতি, কিন্তু এখন এটি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা জলজ জীববৈচিত্র্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
কর্ণফুলীর সংকট শুধু নদীতীর দখল কিংবা দূষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নদীর তলদেশে দূষণের স্তর তৈরি হচ্ছে, যেখানে দোকান, মাছের আড়ত ও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠছে। নগরের খাল-নালা থেকে প্রতিদিন নদীতে পড়ছে শিল্পবর্জ্য, পয়োবর্জ্য ও প্লাস্টিক, যা নদীর পরিবেশকে ধীরে ধীরে বদলে দিচ্ছে।
‘মাইক্রোপ্লাস্টিক পলিউশন ইন দ্য ওয়াটার অ্যান্ড সেডিমেন্ট অব দ্য কর্ণফুলী রিভার’ শীর্ষক গবেষণায় দেখা গেছে, কর্ণফুলীর পানি ও পলিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। গবেষণায় প্রতি ঘনমিটার পানিতে ১৪ দশমিক ২৪ থেকে ২৬ দশমিক ৬৮টি এবং প্রতি কেজি শুকনো পলিতে ৭৫ দশমিক ৬৩ থেকে ২৭২ দশমিক ৪৫টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।
২০১৪ সালে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের যৌথ জরিপে কর্ণফুলীর প্রবহমান অংশের প্রস্থ ৯৩৮ মিটার ছিল। ২০২০ সালে এই প্রস্থ ৪১০ মিটার পর্যন্ত কমে গেছে। নদীর দুই তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য ২০১৬ সালে হাইকোর্ট নির্দেশ দিলেও দখল থামেনি।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ৩৭টি খাল থেকে কলকারখানার বর্জ্য সরাসরি কর্ণফুলীতে পড়ছে, যা নদীর তলদেশ ভরাট ও পরিবেশ হুমকির মুখে ফেলছে। কর্ণফুলী হারালে চট্টগ্রামের পরিবেশ, জনজীবন ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে পড়বে।