কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি প্রশিক্ষণে বই সংগ্রহ ও ডিজিটাল রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় দুর্লভ ও পুরোনো বই ধ্বংসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে ‘ধ্বংসাত্মক স্ক্যানিং’ পদ্ধতি ব্যবহারের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর উদ্বেগ বেড়েছে পুরোনো বই বিক্রেতা ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।
এ বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের নথিতে অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে ছাপা বই কিনে সেগুলোর বাঁধাই কেটে দ্রুত স্ক্যান করার অভিযোগ উঠে আসে। স্ক্যান শেষে বইয়ের অবশিষ্ট অংশ ফেলে দেওয়া হতো। আদালত অবশ্য কপিরাইট আইনের আওতায় এ প্রক্রিয়াকে ‘রূপান্তরমূলক ব্যবহার’ হিসেবে বৈধ বলে রায় দেন।
অস্ট্রেলিয়ার পুরোনো বই বিক্রেতাদের কাছেও সম্প্রতি বড় পরিমাণের বইয়ের ক্রয়াদেশ এসেছে, যা তাদের প্রচলিত ক্রেতাদের আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কানাডাভিত্তিক ‘জুম বুকস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে একাধিক বিক্রেতা বইয়ের অর্ডার পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
জুম বুকস নিজেদের পুরোনো বই সংগ্রহ ও পুনর্বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচয় দেয়। প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে অস্ট্রেলিয়ার কয়েকটি পুরোনো বইয়ের দোকানে বিপুলসংখ্যক বইয়ের অর্ডার এসেছে, যার মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ের পুরোনো প্রকাশনা রয়েছে।
অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, তারা জুম বুকসের কাছ থেকে কোনো বই কেনেনি এবং তাদের তথ্য সংগ্রহ কর্মসূচিতে দুর্লভ বা প্রাচীন বই কিনে ধ্বংস করা হয় না। অন্যদিকে, জুম বুকস জানিয়েছে, তারা পুরোনো বই সংগ্রহ করে অক্ষত অবস্থায় পুনর্বিক্রি করে। তবে এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বই ধ্বংসাত্মক স্ক্যানিংয়ের জন্য বিক্রি করা হয় কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি তারা।