August 8, 2026, 5:11 pm

অনলাইন জুয়ার প্রতিবাদ করায় কলেজ শিক্ষককে কুপিয়ে জখম, ৮ দিনেও জ্ঞান ফেরেনি

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোর প্রতিবাদ করায় আরিফুল ইসলাম নামে এক কলেজ শিক্ষককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে। হামলার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে গত আট দিন ধরে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

আহত আরিফুল ইসলাম লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক। তিনি আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া এলাকার বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে।
এ ঘটনায় আরিফুল ইসলামের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক বাদী হয়ে ঘটনার পরদিন আদিতমারী থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ছয়জন কথিত অনলাইন জুয়া-ক্যাসিনো ব্যবসায়ীসহ মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে এজাহার সূত্রে জানা গেছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রহিদুল ইসলাম, হাসান আলী ও মাসুদ আলীসহ কয়েকজন অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোর কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের মাধ্যমে এলাকার অনেকেই অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, জুয়ার টাকা পরিশোধ করতে না পেরে কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এবং কেউ পরিবার-পরিজন রেখে ঢাকায় চলে গেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও কলেজ শিক্ষক আরিফুল ইসলাম সচেতন নাগরিক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তদের অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করে আসছিলেন, একই সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে,

বিষয়টি পুলিশকে জানানো হবে বলেও তিনি তাদের সতর্ক করেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়।

এজাহার অনুযায়ী, এর জের ধরে গত ১ আগস্ট দুপুরে কলেজ থেকে বাড়িতে আসার পরে বাড়ির বাহিরে বের হলে, আরিফুল ইসলামের ওপর হামলা চালানো হয়।

হামলাকারীরা লোহার রড দিয়ে তাকে মারধরের পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর জখম করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার পর আট দিন অতিবাহিত হলেও এখনো তার জ্ঞান ফেরেনি।
আহত শিক্ষক আরিফুল ইসলামের বাবা ও মামলার বাদী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “আমার ছেলের অবস্থা ভালো নয়। হামলায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। গত আট দিন ধরে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। এখনো তার জ্ঞান ফেরেনি। চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন। মামলা করার সাত দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।”

মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজিব বলেন, “এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে গুরুতর আহত কলেজ শিক্ষক আরিফুল ইসলামের উন্নত চিকিৎসা ও দ্রুত সুস্থতার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা