হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের গাড়িবহরে হামলা এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের পুলিশি বাধা ও হয়রানির অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে জোটটি।
বুধবার এক বিবৃতিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদ ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ‘জুলাই পদযাত্রা-২০২৬’ কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ শীর্ষ নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। পরদিন (২৯ জুলাই) ওই ঘটনার প্রতিবাদে হবিগঞ্জে কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন স্থানে ১৪৪ ধারা জারির মাধ্যমে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপিসহ দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের পুলিশ আটকে দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, এ ধরনের পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের শামিল।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলো বাকস্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে। রাজনৈতিক বক্তব্যের জবাব রাজনৈতিকভাবেই দেওয়া উচিত, হামলা বা সহিংসতার মাধ্যমে নয়। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে সরকার বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করছে।
বিবৃতিতে তিনি আরও দাবি করেন, হবিগঞ্জে বিএনপির যেসব নেতাকর্মী আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এনসিপির নেতাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
ড. আযাদ বলেন, ১৪৪ ধারা জারির মাধ্যমে বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে। দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে ভবিষ্যতে বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দায়িত্ব পালনেরও আহ্বান জানান।