July 1, 2026, 7:50 am

বকশীগঞ্জে নদীভাঙন বাড়ছে , নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে নদীপারের মানুষ

মোহাম্মদ আসাদ-স্টাফ রিপোর্টার :

বকশীগঞ্জ উপজেলায় দশানী, জিঞ্জিরাম ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র হয়েছে নদীভাঙন। গত কয়েক দিনের ভাঙনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের শতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। হারিয়ে গেছে ফসলি জমি ও গাছপালা। ভাঙনের আশঙ্কায় অনেক পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে,নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে নদীপারের মানুষ খোলা জায়গায় অস্থায়ীভাবে বসবাস করছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মেরুরচর ইউনিয়নের শেখেরচর, মাইছেনির চর, ভাটি কলকিহারা, ফকিরপাড়া, খেওয়ারচর, জাগিরপাড়া, ঘুঘরাকান্দি ও বেতমারী, নিলাক্ষিয়া ইউনিয়নের কুশলনগর ও সাজিমারা এবং সাধুরপাড়া ইউনিয়নের আইড়মারী ও কুতুবেরচর এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। নদীর প্রবল স্রোতে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে।

কলকিহারা গ্রামের জিনেত আলী, শাহ কামাল ও হোসেন মণ্ডল বলেন, গত কয়েক বছরে একাধিকবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছেন তারা। বসতভিটা ও আবাদি জমি হারানোর পর এবার ঘর তোলার মতো জায়গাও অবশিষ্ট নেই। পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাদের।

ফকিরপাড়া গ্রামের বিল্লাল, কালাম, মজমত ও শরফত আলী, জাগিরপাড়া গ্রামের আবদুল কুদ্দুস, শেখেরচর গ্রামের আতিকুর রহমান এবং কুশলনগর গ্রামের মীর কাসেম বলেন, নদীর পানি বাড়লেও ভাঙন হয়, আবার পানি কমার সময়ও তা থামে না। ত্রাণের চেয়ে ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

মেরুরচর হাছেন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, একই পরিবারকে বারবার নদীভাঙনের শিকার হতে হচ্ছে। ভিটেমাটি হারিয়ে অনেকেই খোলা জায়গায় বসবাস করছেন। তিনি দ্রুত কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

মেরুরচর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু করবে বলে তিনি আশা করছেন।

নিলাক্ষিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান বলেন, সাজিমারা ও কুশলনগর এলাকায় বেশ কয়েকটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীগর্ভে চলে গেছে ফসলি জমি ও গাছপালা। স্থানীয়দের একমাত্র দাবি, নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধান।

বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। নদীভাঙনের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে।

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান খান বলেন, বাঙালপাড়া ও ঘুঘরাকান্দি এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে। ঝুঁকিপূর্ণ অন্যান্য এলাকাতেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা