June 16, 2026, 10:39 am

বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক সম্মেলন, বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে বিজিবির ব্যাখ্যা

সম্প্রতি সদ্য সমাপ্ত ৫৭তম বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন সম্পর্কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তি ও দু-একটি সংবাদমাধ্যম বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন এবং এমন কিছু তথ্য, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য উপস্থাপন করছেন, যা অনুমাননির্ভর এবং প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে অসম্পূর্ণ ধারণার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। সঠিক তথ্য উপস্থাপনের লক্ষ্যে বিষয়গুলো স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর, যৌথ নদী কমিশন ও অন্যান্য সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতিনিধিত্ব করেন।
সোমবার (১৫ জুন) বিজিবির সদরদপ্তর থেকে জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি অবগত করেন।
মহাপরিচালক পর্যায়ের এই সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৩১টি ও ভারতের পক্ষ থেকে ২১টি এজেন্ডা উপস্থাপন করা হয়। এখানে উল্লেখ্য যে, উক্ত এজেন্ডাসমূহের ওপর অনুষ্ঠিত আলোচনার ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের প্রামাণিক/অথেন্টিক দলিল হলো ‘জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশনস (জেআরডি)’, যা বিজিবি ও বিএসএফ-এর মহাপরিচালক কর্তৃক স্বাক্ষরিত হয়।
সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালকের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন ইস্যুকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করে। বিশেষ করে সীমান্তে নিরীহ ও নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশনস (জেআরডি)-এ যথাযথভাবে প্রতিফলিত ও লিপিবদ্ধ হয়েছে।
এ ছাড়া পুশ-ইন, সীমান্ত হত্যা, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে অবৈধ অবকাঠামো নির্মাণ, মাদক চোরাচালান, সীমান্ত নিরাপত্তা ও পার্বত্য অঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রমসহ বাংলাদেশের সব উদ্বেগগুলো শুধু আলোচিতই হয়নি, আনুষ্ঠানিকভাবে জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশনে নথিবদ্ধও হয়েছে। সম্মেলনের এই আনুষ্ঠানিক দলিল পর্যালোচনা করলে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, এতে বিজিবির পক্ষ থেকে উত্থাপিত সব উদ্বেগ ও অবস্থান সম্পূর্ণ দৃঢ়তার সঙ্গে, স্পষ্টভাবে এবং কোনো ধরনের আপস বা নমনীয়তা ব্যতীত যথাযথভাবে প্রতিফলিত ও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ১২ জুন ২০২৬ বিজিবি কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি উক্ত জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশসনের ওপর ভিত্তি করেই তৈরি করা হয়েছে।
উদ্দেশ্য প্রণোদিত কিছু ব্যক্তি ও দু-একটি সংবাদমাধ্যম ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালকের সাক্ষাৎকে ‘গোপন বৈঠক’ হিসেবে উপস্থাপনের যে চেষ্টা করেছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। আগে অনুষ্ঠিত প্রতিটি সীমান্ত সম্মেলনেই আয়োজক দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার সঙ্গে অংশগ্রহণকারী বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ একটি প্রতিষ্ঠিত প্রচলন ও অনুসৃত প্রথা। এখানে উল্লেখ্য যে, ঢাকায় অনুষ্ঠিত ৫৬তম সীমান্ত সম্মেলনে ডিজি বিএসএফ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে একই ধরনের সাক্ষাৎ করেছিলেন। এবারও মহাপরিচালকের সঙ্গে বিজিবির অন্য শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তা ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যা ভারতে যাওয়ার আগেই পূর্বনির্ধারিত এবং অনুমোদিত ছিল, যেখানে সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান মহাপরিচালক বিজিবি দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করেন। আয়োজক দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ একটি স্বাভাবিক কূটনৈতিক রীতি- এটিকে রহস্যময় করে উপস্থাপন করা বাস্তবতা বিবর্জিত।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন, কাঁটাতার স্থাপন, মাদক ও মানবপাচার প্রতিহত করা, মিয়ানমার সীমান্তের অস্থিতিশীলতা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিজিবি মহাপরিচালকের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় দৃঢ় অবস্থান নিয়ে বিজিবি যখন জনমনে আস্থা ফিরিয়ে এনেছে, তখন বিভ্রান্তিমূলক ও অসত্য তথ্য প্রচার এবং বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বকে প্রমাণহীন ব্যক্তিগত আক্রমণের মাধ্যমে হেয় করার প্রচেষ্টা বাহিনীর মনোবল ভাঙার অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়।
সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, মাদক চোরাচালান এবং সীমান্ত নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা জাতীয় স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মতামত ও বিশ্লেষণের অবকাশ অবশ্যই আছে- তবে তা যাচাইকৃত তথ্য, প্রামাণিক নথি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্যের ভিত্তিতে হতে হবে।

বিজিবি বর্তমানের মতো ভবিষ্যতেও পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধের সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে তার কার্যক্রম পরিচালনা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও বদ্ধপরিকর।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা