রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে নাশকতা ও ভাঙচুরে জড়িত থাকার অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে ডিবির মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মিরপুর-১০ ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি জানায়, পোশাকশ্রমিকেরা ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করছেন। এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার আড়ালে সাধারণ শ্রমিকদের ব্যবহার করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নাশকতার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ পুলিশের।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. কামাল গাজী (৩২), মো. ওলিউল্লাহ অনিক (২০), আলিফ হোসেন ইমন (২৬), মো. নাহিদ হাসান (১৮), আরিফ আকন্দ (২৯), জায়েদ করিম রিয়াজ (২৪), মো. রমজান সরকার (১৮), মোয়াজ্জেম শাহরিয়া নিয়াজ, জুবায়েদ ইসলাম জিসান (২২) ও মো. মাহিম মোল্লা (১৯)। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে শ্রমিক লীগের একজন নেতা, আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য এবং যুবলীগের একজন কর্মী রয়েছেন।
ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, কামাল গাজী শ্রমিক লীগের সহসাধারণ সম্পাদক। শ্রমিক আন্দোলনে মিছিল ও ভাঙচুরের জন্য লোক সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ওলিউল্লাহ অনিককে আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য ও পিকেটার হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। অন্যদেরও আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সক্রিয় কর্মী বলে দাবি করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বাড়ি পটুয়াখালী, কুষ্টিয়া, মুন্সীগঞ্জ, পঞ্চগড়, গাইবান্ধা, কক্সবাজার, পাবনা, সাভার ও মাদারীপুরে। তারা রাজধানীর মিরপুর, পল্লবী, রূপনগর, কাফরুল ও উত্তরা এলাকায় বসবাস করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে শ্রমিক আন্দোলনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাদের অংশগ্রহণের বিষয়টিও সামনে এসেছে। তাদের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজবুল ইসলামের নাম উল্লেখ করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তার বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিওতে আন্দোলনে অংশ নিয়ে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
ডিবির মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান বলেন, নাশকতার চেষ্টায় প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।