September 12, 2026, 6:06 am

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা . আসিফ নজরুল

মেয়ের পোষা ছাগল চুরির ঘটনা জীবনের অন্যতম হৃদয়বিদারক: আসিফ নজরুল

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, তার ছোট মেয়ের পোষা ছাগল চুরির ঘটনা তার জীবনের অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপক খালেদ মুহিউদ্দীনের প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, ছাগলটি রাজনৈতিক প্রতিশোধের অংশ হিসেবে চুরি করা হয়েছিল বলে যে আলোচনা রয়েছে, তা সঠিক নয়। মূলত মজা করার উদ্দেশ্যেই ছাগলটি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানান।

তবে একটি শিশুর পোষা প্রাণী চুরি করে সেটি খেয়ে ফেলার ঘটনাকে অত্যন্ত নির্মম ও অমানবিক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই হোক কিংবা মজা করার জন্যই হোক, এ ধরনের কাজ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মেয়ের সঙ্গে ছাগলটির গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরে আসিফ নজরুল বলেন, হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে একা থাকার সময় সাড়ে ৯ বছরের মেয়েটির সঙ্গী হিসেবে ছাগলটি কিনে দেওয়া হয়েছিল। প্রতিদিন মেয়েটি স্কুলে যাওয়ার সময় ছাগলটি তার ফেরার অপেক্ষায় থাকত। স্কুল থেকে ফিরে মেয়েটি ছাগলটির সঙ্গে খেলাধুলা করত।

এমনকি মেয়েটির মোবাইল ফোনের ওয়ালপেপারেও মায়ের ছবির পরিবর্তে ছাগলটিকে জড়িয়ে ধরে থাকা একটি ছবি ছিল বলে জানান তিনি।

ছাগলটি হারিয়ে যাওয়ার পর মেয়েটি মারাত্মকভাবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে বলেও জানান আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, কাঁদতে কাঁদতে মেয়েটি বমি করে ফেলে এবং প্রায় দেড় দিন কোনো খাবার খায়নি। এতে সে শারীরিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়ে।

ছাগলটিকে জবাই করে খেয়ে ফেলার বিষয়টি এখনো মেয়েকে জানানো হয়নি বলে জানান তিনি। মেয়েকে বলা হয়েছে, দরজা খোলা থাকায় ছাগলটি পালিয়ে গেছে। সত্যটি জানালে মেয়েটি আরও বেশি ভেঙে পড়বে বলেই তাকে বিষয়টি জানানো হয়নি।

ছাগলটি কাটার ঘটনাটিও বিস্তারিত তুলে ধরেন আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, প্রথমে ভোঁতা বঁটি দিয়ে ছাগলটি কাটার চেষ্টা করা হলেও সেটি কাটা যাচ্ছিল না। পরে কারওয়ান বাজার থেকে ধারালো বঁটি এনে ছাগলটি কাটা হয়। ঘটনাটিকে তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও পিশাচসুলভ আচরণ হিসেবে বর্ণনা করেন।

এ ঘটনাকে ছাত্রনেতাদের রাজনৈতিক শত্রুতা বা প্রতিবাদের সঙ্গে যুক্ত করারও বিরোধিতা করেন তিনি। আসিফ নজরুল বলেন, ছাত্র অধিকার পরিষদের নাহিদ, আসিফ মাহমুদ, আখতার হোসেন ও সারজিস আলমের সঙ্গে তার শেষ দিন পর্যন্ত অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।

তিনি আরও বলেন, সরকার গঠনের পর নাহিদরা তাদের প্রথম কর্মসূচিতেই তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এরপরও তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় ছিল।

বাইরের কেউ ঘটনা সম্পর্কে না জেনে এটিকে রাজনৈতিক প্রতিশোধ হিসেবে প্রচার করছে বলেও মন্তব্য করেন আসিফ নজরুল। তার দাবি, ছাগল নিয়ে যাওয়ার ঘটনার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক যোগসূত্র ছিল না; ঘটনাটি মূলত মজা করার উদ্দেশ্যেই ঘটানো হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শেষ দিকে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে হেয়ার রোডের সরকারি বাংলো থেকে আসিফ নজরুলের ছোট মেয়ের পোষা ছাগলটি নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহলের জন্ম দেয়।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা