মহাকাশে প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে চলা নাসার ভয়েজার-২ অবসরে যাওয়ার কথা থাকলেও এটির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে। মহাকাশযানটির শক্তিব্যবস্থায় নতুন এক পরিবর্তন এনে সচল করে এই মেয়াদ বাড়িয়েছে নাসা। ‘বিগ ব্যাং’ নামের এক বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে এই শক্তিব্যবস্থার পরিবর্তন করা হয়।
৭২২ কিলোগ্রাম ওজনের স্পেস প্রোব ভয়েজার-২, ১৯৭৭ সালের ২০ অগাস্ট মহাশূন্যে পাঠানো হয়। সৌরজগতের বাইরের পরিবেশ সম্পর্কে জানতে এই মিশন পরিচালনা করা হয়। এর শক্তির মূল উৎস হচ্ছে ‘রেডিওআইসোটোপ থার্মোইলেকট্রিক জেনারেটর’, যা ক্ষয়প্রাপ্ত প্লুটোনিয়ামের তাপকে বিদ্যুতে রূপান্তরিত করে।
চার যুগের বেশি সময় ধরে মহাকাশে সচল থাকা এই মহাকাশযানের পারমাণবিক জ্বালানি ক্ষয়ের কারণে বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। নতুন এই পরিবর্তনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। নাসা বলেছে, ‘বিগ ব্যাং’ অভিযানের অংশ হিসেবে বেশি বিদ্যুৎ খরচকারী নির্দিষ্ট কিছু ডিভাইস একসঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ভয়েজার-২ মহাকাশযানটি ২০১৮ সালে সৌরজগতের সীমানা ছাড়িয়ে ‘ইন্টারস্টেলার স্পেস’ বা আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাশূন্যে প্রবেশ করে। এটি সূর্য তার চারপাশের গ্রহগুলোকে ঘিরে যে সুরক্ষাবলয় তৈরি করেছে, তার বাইরের প্লাজমার ঘনত্ব ও তাপমাত্রা সংক্রান্ত তথ্য পৃথিবীতে পাঠিয়ে আসছে।