July 6, 2026, 9:24 pm

মাদক উদ্ধারের নামে লুটপাট, চুরির মামলায় কারাগারে ফতুল্লার এসআই

স্টাফ রিপোর্টার:

আইনশৃঙ্খলা রক্ষার আড়ালে খোদ পুলিশের বিরুদ্ধেই মাদক অভিযানের নামে সাধারণ মানুষের সর্বস্ব লুটে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশারের বিরুদ্ধে মাদক উদ্ধারের নামে সোনার চেইন চুরির অভিযোগ ওঠার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জেলা পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, ফতুল্লা এলাকায় মাদক উদ্ধারের একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযানে যান এসআই খায়রুল বাশার। অভিযোগ রয়েছে, মাদক উদ্ধারের নামে তল্লাশির আড়ালে সেখানে স্বর্ণের চেইন চুরির ঘটনা ঘটান তিনি। ভুক্তভোগী পরিবার আইনের আশ্রয় নিলে বিষয়টি জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে। প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দী রয়েছেন।

এই ঘটনার পর ফতুল্লা মডেল থানার ভেতরে সহকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। তবে স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই ক্ষোভ অপরাধের বিরুদ্ধে নয়—বরং সহকর্মীর প্রকাশ্য গ্রেপ্তারে নিজেদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড ফাঁস হয়ে যাওয়ার শঙ্কা থেকেই তৈরি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানান, ঘটনার পর থেকে থানার অফিসারদের মধ্যে মাদক, অস্ত্র কিংবা পরোয়ানাভুক্ত আসামি ধরার ক্ষেত্রে অনীহা ও ঢিলেমি লক্ষ করা যাচ্ছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূলত নিজেদের অপরাধ লুকাতে না পারার আতঙ্ক থেকেই উদ্ভূত।

শিল্পাঞ্চল ফতুল্লায় পুলিশের এমন কর্মকাণ্ড এবং তার জেরে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমে স্থবিরতার কারণে এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের ভাষ্য, পুলিশ নিজেই যখন চুরির মামলায় জড়িয়ে পড়ে, তখন অপরাধীদের মনে আইনের ভয় কমে যায়। এই সুযোগে মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারীরা নতুন করে বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

ঘটনার পর ফতুল্লাবাসী চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, অপরাধী পুলিশ হোক বা সাধারণ নাগরিক—আইন সবার জন্য সমান হতে হবে। পুলিশের অপরাধের কারণে যেন সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগে, সে জন্য জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ফতুল্লা মডেল থানার সামগ্রিক কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বাড়িয়ে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন জেলা পুলিশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা