June 20, 2026, 6:24 pm

গ্যাসের দামে পানি কিনছেন খাগড়াছড়িবাসী! সিলিন্ডার জালিয়াতির ঘটনায় জরিমানা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

টাকা দিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার কিনে ওজনে মিলছে পানি! খাগড়াছড়ি শহরে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারে অভিনব এক জালিয়াতির ঘটনা ফাঁস হয়েছে। বেক্সিমকো ব্র্যান্ডের একটি সিলিন্ডারে গ্যাসের পরিবর্তে পানি পাওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পর মাঠে নেমেছে প্রশাসন। শনিবার সকালে শহরের চেঙ্গী স্কয়ার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এক খুচরা ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী ডিলারকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

যেভাবে ফাঁস হলো জালিয়াতি:
ঘটনার সূত্রপাত খাগড়াছড়ি শহরের চেঙ্গী স্কয়ার সংলগ্ন ‘সিকদার এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি দোকানে। সেখান থেকে বেক্সিমকো ব্র্যান্ডের একটি সিলিন্ডার কেনেন এক নিয়মিত ক্রেতা। সাধারণত একটি সিলিন্ডারে মাস পার হলেও এবার মাত্র ১৫ দিনেই রান্নাঘরের গ্যাস শেষ হয়ে যায়।

বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে ক্রেতা সিলিন্ডারটি হাতে নিয়ে ঝাঁকুনি দেন। তখনই ভেতরে তরল পানির অস্তিত্ব টের পান তিনি। ওজনে কারচুপি করতে সিলিন্ডারে পানি ভরে রাখা হয়েছে—এমন নিশ্চিত প্রমাণ পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিক প্রশাসনকে অবহিত করেন।

দোষ চাপানোর চেনা খেলা:
অভিযোগের আঙুল উঠতেই শুরু হয়েছে একে অপরের ওপর দোষ চাপানোর চেনা খেলা। সিকদার এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. খায়রুল হোসেনের দাবি, তিনি নির্দোষ। তিনি শহরের ‘জননী ট্রেডার্স’ নামের ডিলার পয়েন্ট থেকে সিলিন্ডার এনে শুধু খুচরা বিক্রি করেছেন।

অন্যদিকে, খাগড়াছড়ির বড় গ্যাস ডিলার শংকর দেবনাথের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বেক্সিমকো ব্র্যান্ডের সাথে কোনো ধরণের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন। তবে সিলিন্ডারে পানি থাকার এই নোংরা কারসাজির জন্য তিনি সরাসরি উৎপাদনকারী কোম্পানিকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন।

প্রশাসনের হানা: অতর্কিত অভিযানে জরিমানা
প্রতারণার খবর পেয়ে দ্রুত অ্যাকশনে যান জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজ্জাদ হোসেন। তার নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিক দুটি পক্ষকে শাস্তির আওতায় আনে:
খুচরা বিক্রেতা (সিকদার এন্টারপ্রাইজ): বৈধ লাইসেন্স ছাড়া গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির দায়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা। সরবরাহকারী (জননী ডিলার পয়েন্ট): অন্য ডিলার পয়েন্টের নাম ব্যবহার করে অবৈধ উপায়ে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজ্জাদ হোসেন স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “জনস্বার্থে এবং ভোক্তার অধিকার রক্ষায় বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। কোনো অসাধু চক্রকে সাধারণ মানুষের পকেট কাটতে দেওয়া হবে না।

শঙ্কিত সাধারণ ভোক্তা:
গ্যাস সিলিন্ডারের মতো স্পর্শকাতর এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসে এমন ভেজাল ও প্রতারণার ঘটনায় খাগড়াছড়ির সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুধু বিক্রেতা বা ডিলার নয়, সিলিন্ডারের ভেতরে পানি ঢোকানোর এই চক্রের মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে সরবরাহ চেইনের ওপর কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা