May 27, 2026, 6:50 pm

পাঁচ মাস পর ইন্টারপোলের সহায়তায় দেশে ফিরল আব্রাহাম হত্যা মামলার মূল আসামি

গাজী সোহেল :
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে আলোচিত মস্তকবিহীন আব্রাহাম হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী মোবারক মন্ডলকে (৪৭) ইন্টারপোলের সহযোগিতায় কাতার থেকে গ্রেফতার করে দেশে ফিরিয়েছে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা। হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পাঁচ মাস ১০ দিন পর বুধবার (২৭ মে) সকালে তাকে বাংলাদেশে আনা হয় এবং পরে সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, আড়াইহাজার থানার মামলা নং-১৪, তারিখ ১৮/১২/২০২৫, ধারা ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোডের আলোচিত এ মামলার তদন্তে এসআই মো. জাহিদ হোসেন রায়হানের নেতৃত্বে পিবিআই নারায়ণগঞ্জের একটি আভিযানিক টিম তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত মো. রুহুল আমিন ওরফে রাব্বি (২৬) কে গত ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ঢাকার মধ্য বাড্ডা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। পরে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, নিহত আবরাহাম খান ওরফে আলীম খানের (২৭) সঙ্গে গ্রেফতারকৃত রাব্বির খালার পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে নিহত ব্যক্তি তাকে ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করেন। এর জেরে রাব্বি, তার খালা ও অন্যান্য সহযোগীরা হত্যার পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ নিহতকে রাজবাড়ীর পাংশা থেকে কৌশলে আড়াইহাজারে ডেকে আনা হয়। পরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে তার মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরিচয় গোপন করতে মরদেহের জামাকাপড় খুলে নেওয়া হয় এবং মাথা ও হত্যায় ব্যবহৃত দা ব্যাগে ভরে পাশের খালে ফেলে দেওয়া হয়।
পিবিআইয়ের তদন্তে আরও উঠে আসে, মূল পরিকল্পনাকারী মোবারক মন্ডল বিদেশ থেকে গোপনে দেশে এসে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে পুনরায় বিদেশে পালিয়ে যান। পরে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া ও ইন্টারপোলের সহায়তায় কাতার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গত ২৭ মে সকাল ৬টায় তাকে দেশে আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ সকালে আড়াইহাজার থানাধীন শ্রীনিবাসদী এলাকার একটি বালুর মাঠ সংলগ্ন রাস্তার পাশে মস্তকবিহীন একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থল থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা ওয়াজেদ আলী খান বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। এছাড়া রুহুল আমিন রাব্বির খালা ও অন্যান্য অজ্ঞাত আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা