May 19, 2026, 6:59 am

আরব দেশগুলোর অনুরোধে ইরানে নতুন হামলা স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের অনুরোধে ইরানের ওপর মঙ্গলবারের পরিকল্পিত নতুন হামলা স্থগিত করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তেহরানের সঙ্গে ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’ চলছে।নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তাকে জানানো হয়েছে যে এমন একটি সমঝোতা হতে যাচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘খুবই গ্রহণযোগ্য’ হবে। তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।’

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, গ্রহণযোগ্য চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘যেকোনো মুহূর্তে’ ইরানের বিরুদ্ধে বড় পরিসরের হামলা চালাতে প্রস্তুত থাকবে।

এর জবাবে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রকে ‘কৌশলগত ভুল ও ভুল হিসাব’ না করার আহ্বান জানান।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করে। পাল্টা জবাবে তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

এ পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা হলে ইরান আবারও প্রতিবেশী দেশগুলোর বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা ও লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাতে পারে।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি খুবই ইতিবাচক অগ্রগতি। তবে শেষ পর্যন্ত কী হয়, তা দেখতে হবে।’

তিনি বলেন, অতীতেও কয়েকবার সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেও আলোচনা ভেঙে গেছে। তবে এবার পরিস্থিতি ‘কিছুটা ভিন্ন’ বলে মনে হচ্ছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে সমঝোতার খুব ভালো সম্ভাবনা আছে। যদি বোমাবর্ষণ ছাড়াই সেটা করা যায়, তাহলে আমি খুবই খুশি হব।’

এপ্রিল মাসে আলোচনার সুবিধার্থে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্ন হামলা হলেও সেটি মোটামুটি বহাল রয়েছে।

এদিকে ইরান এখনো হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে যায়। ইরানের এ অবস্থানের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে।

অন্যদিকে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে দেশটির বন্দরগুলো অবরোধ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, নতুন করে হামলা হলে এমন নতুন ফ্রন্ট খোলা হবে, যেখানে প্রতিপক্ষের অভিজ্ঞতা কম এবং দুর্বলতা বেশি।

এর আগে রোববার ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘ইরানের জন্য সময় ফুরিয়ে আসছে। তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, নইলে তাদের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’

ইরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাব তারা দিয়েছে এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা চলছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের দাবির মধ্যে রয়েছে—সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানি বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে আর হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা এবং যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের একটি মাত্র পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখা এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের দাবি তোলা হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

ট্রাম্প সম্প্রতি ইঙ্গিত দেন, ইরান ২০ বছরের জন্য পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করতে রাজি হলে সেটি বিবেচনা করা হতে পারে। এর আগে তিনি পুরো কর্মসূচি বন্ধের দাবি জানিয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা অভিযোগ করে আসছে, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা