বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের পদত্যাগ নিয়ে চলমান জল্পনার মধ্যে তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ও ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সরে দাঁড়ানোর কোনো সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি। স্কাই নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, স্টারমার এখনো দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং পদ ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।
ল্যামি বলেন, আমি খুব পরিষ্কারভাবে বলতে চাই- কিয়ের স্টারমার আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে দৃঢ়চেতা মানুষদের একজন। আমি এরই মধ্যে তার সঙ্গে দু’বার কথা বলেছি। তার চরিত্রের দৃঢ়তা ও লড়াই করার অভিজ্ঞতা আছে। পদত্যাগের কোনো সময়সূচি থাকবে না। তিনি আরও বলেন, এখন সরকারের কাজ এগিয়ে নেয়াই মূল বিষয়। এ ব্যাপারে আমি একদম পরিষ্কার। লেবার পার্টির ৯২ জন এমপি স্টারমারের বিদায়ের সময়সূচি ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ল্যামি আবারও বলেন, বিদায়ের কোনো সময়সূচি থাকবে না।
ওদিকে লেবার রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম অ্যান্ডি বার্নহাম। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বার্নহাম আবার পার্লামেন্টে ফিরতে চান এবং এজন্য তিনি মেকারফিল্ড আসনে উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি এমপি হতে পারলে পরে স্টারমারের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। সোমবার সকালে তাকে গ্রেটার ম্যানচেস্টারে দৌড়াতে দেখা গেছে। বৃটিশ পত্রিকা দ্য টাইমস ও দ্য টেলিগ্রাফের ফ্যাশন বিষয়ক সাংবাদিকরা তার ছোট শর্টস নিয়েও আলোচনা করেন।
ওদিকে, উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডের মেয়র কিম ম্যাকগিনেস বলেছেন, অ্যান্ডি বার্নহাম ‘দারুণ প্রধানমন্ত্রী’ হতে পারেন। তিনি বলেন, তবে আগে তাকে মেকারফিল্ড আসনটি জিততে হবে। ম্যাকগিনেস অভিযোগ করেন, ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকে বার্নহামকে ঠেকাতে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, আমি চাই তিনি উপনির্বাচনে জিতুন, পার্লামেন্টে ফিরুন, এরপর দেখা যাবে কী হয়।
এদিকে লেবার নেতা হওয়ার সম্ভাব্য আরেক মুখ ওয়েস স্ট্রিটিং সম্প্রতি বলেছেন, তিনি মনে করেন ভবিষ্যতে বৃটেনের আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফেরা উচিত। এরপর থেকেই ব্রেক্সিট বিতর্ক নতুন করে শুরু হয়েছে। ডেভিড ল্যামিকে বারবার জিজ্ঞাসা করা হলেও তিনি সরাসরি বলেননি যে বৃটেনের আবার ইইউতে যোগ দেয়া উচিত কি না। তিনি বলেন, আমি গর্বিত যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আমি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেন যে বর্তমান সরকারের ঘোষিত নীতির মধ্যে রয়েছে- বৃটেন আবার সিঙ্গেল মার্কেট, কাস্টমস ইউনিয়ন বা অবাধ চলাচল ব্যবস্থায় ফিরবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মেকারফিল্ড উপনির্বাচন এখন লেবারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্কাই নিউজের রাজনৈতিক অনুষ্ঠান পলিটিক্স অ্যাট স্যাম অ্যান্ড অ্যান’স-এ বলা হয়েছে, বার্নহামের জয়ের সম্ভাবনা ৫০ শতাংশেরও কম বলে লেবারের কিছু সূত্র মনে করছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে- বার্নহাম কি লেবারের ‘ত্রাণকর্তা’ হবেন, নাকি দলকে আরও গভীর সংকটে ঠেলে দেবেন?