April 19, 2026, 5:05 pm

বীরগঞ্জে বাড়িঘর, শ্মশানকালী মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ; পুলিশ মোতায়েন

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের ঘোড়াবান্দা গ্রামের কাদেরের ছেলে রেজাউল ও আজগর সাহার ছেলে আজাদের নেতৃত্বে দেড় থেকে দুইশো ভাড়াটিয়া গুন্ডা ও দেশীয় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে সনকা আদিবাসী ধর্মান্তরিত খ্রিষ্টান পাড়ার শ্মশানকালী মন্দির ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। পরে কালী মূর্তিটি ব্যাপক ভাঙচুর করে পার্শ্ববর্তী ভুট্টা ক্ষেতে ফেলে দেয়।

আদিবাসীদের মতে, ওই মৌজার আদিবাসীদের কবরস্থানের ১৫০ দাগের ৯৩ শতক জমির গাছ কেটে জমি দখলের চেষ্টাকালে আদিবাসীরা প্রবল বাধা দেয়। এতে সন্ত্রাসী বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়।

এ সময় গণেশ সরেনের ছেলে বিশ্বনাথ অরফে ভোন্দা (৩০) বুকে এবং সাবানা মুরমু (২৫) পিঠে তীরবিদ্ধ হন।

গাছ কাটার পূর্বে তারা আতঙ্ক ও ত্রাস সৃষ্টির লক্ষ্যে আদিবাসী পল্লীর মঙ্গল অরফে যাকব মুরমুর ছেলে পিউস মুরমু (৪৫)-এর বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে তার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন এবং মহিলাদের লাঞ্ছিত করা হয়। পরে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

আহতদের মুমূর্ষু অবস্থায় বীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

সংবাদ পেয়ে বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম, এসআই জাহাঙ্গীর বাদশা রনি ও এসআই দীনেশ রায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রেজাউল ও আজাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের পাওয়া যায়নি। তবে তাদের পরিবারের সদস্যরা জানান, বিবাদমান জমি নিয়ে সংঘর্ষে আদিবাসীদের হামলায় তারা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) বীরগঞ্জ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর বর্মন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বাস্তব চিত্র দেখে সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্বস্ত করেন।

এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

রনজিৎ সরকার রাজ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা