রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে নবম দিনের মতো চলছে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে অবরোধের সমর্থনে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন জ্বালান আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল জোরদার করেছে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী।
অবরোধের কারণে সাজেকের সঙ্গে দেশের অন্যান্য এলাকার সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্ধ রয়েছে পর্যটন কার্যক্রম। দীর্ঘদিন যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সাজেকের দুর্গম গ্রামগুলোতে খাদ্য ও ওষুধের সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার বাঘাইহাট সেনাক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। সেনাবাহিনীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরিদর্শনকালে তিনি দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।
পাঁচ দফা দাবিতে গত ২২ অক্টোবর থেকে তৃতীয় দফায় অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ২২ অক্টোবরের হামলার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত, জড়িতদের শাস্তি, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ, আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণ এবং সাজেক থেকে জেএসএসের সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের প্রত্যাহার। পাশাপাশি চাঁদাবাজি, হয়রানি ও আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার বন্ধের দাবিও জানিয়েছে সংগঠন দুটি।
গত ২২ অক্টোবর অবরোধকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আন্দোলনকারী ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর মধ্যে উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই সময় সাজেকে আটকা পড়েন ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটক। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের নিরাপত্তায় তাদের খাগড়াছড়িতে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সংকট নিরসনে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্যদের মধ্যস্থতায় আলোচনা হলেও পাঁচ দফা দাবির একটি বিষয়ে সমঝোতা না হওয়ায় অবরোধ প্রত্যাহার হয়নি। গত ২৬ অক্টোবর প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে চারটি দাবির বিষয়ে সমঝোতা হলেও জেএসএসের সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের প্রত্যাহারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, এলাকার সামগ্রিক পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে এবং তা পুলিশের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে।