October 30, 2026, 7:14 am

ইমরান খানের জীবন নিয়ে শঙ্কা, বাবার কিছু হলে দায়ীদের সতর্ক করলেন ছেলে

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের জীবন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁর ছেলে সুলাইমান খান। দীর্ঘদিনের কারাবাস, নির্যাতন ও চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেছেন, গত আগস্টের পর থেকে পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীরা তাঁর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সুলাইমান অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের কারণে তাঁর বাবা দীর্ঘদিন কারাগারে রয়েছেন। তাঁর দাবি, ইমরান খানকে মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির মতো পরিণতির দিকে ঠেলে দেওয়া হতে পারে।

সুলাইমানের ভাষ্য, গত আগস্টে ইমরান খান নির্যাতনের অভিযোগ তোলার পর থেকে তাঁকে কেউ দেখেননি বা তাঁর কাছ থেকে কোনো কথা শোনেননি। কারাগারে চিকিৎসা ও সাক্ষাতের সুযোগ নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিলেও তা উপেক্ষা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সুলাইমান সতর্ক করে বলেন, তাঁর বাবার কোনো ক্ষতি হলে এর দায় কার, তা নিয়ে যেন কোনো সংশয় না থাকে। ইমরান খান পাকিস্তানের জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হওয়ায় ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী তাঁকে ভয় পায় বলেও দাবি করেন তিনি।

৭৪ বছর বয়সী ইমরান খান দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের মামলায় দণ্ডিত হয়ে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা রয়েছে। তবে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী সব অভিযোগ অস্বীকার করে মামলাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন।

অন্যদিকে, ইমরান খানের ওপর নির্যাতন, নির্জন কারাবাস ও চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাকিস্তান সরকার। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, আদালতের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবেই তিনি কারাগারে রয়েছেন।

এদিকে, ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন জোরদারের মধ্যে তাঁর পরিবারের সদস্যদের আটক ও তাঁদের ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। গত সেপ্টেম্বরে তাঁর তিন বোন আলিমা খান, উজমা খান ও নোরিন নিয়াজিকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের আটকাদেশ আরও ৩০ দিন বাড়ানোর কথা জানান পাঞ্জাব সরকারের কর্মকর্তারা।

কারাবন্দি থাকলেও ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে সমর্থকদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে তাঁর মুক্তি, পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং পছন্দের চিকিৎসকদের মাধ্যমে চিকিৎসার দাবিতে হাজারো সমর্থক সমাবেশ করেন।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা