October 20, 2026, 10:32 pm

ফেলে দেওয়া ৬ হাজার প্লাস্টিকের বোতলে দুর্গাপূজার মণ্ডপ, শেরপুরে দর্শনার্থীদের ঢল

শেরপুর প্রতিনিধি: ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতল, তুলা ও নেটের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে দুর্গাপূজার ব্যতিক্রমী মণ্ডপ। ছয় হাজারের বেশি পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে মণ্ডপের মূল কাঠামো। এর সঙ্গে তুলা ও নেটের ব্যবহারে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মেঘের আবহ। বর্ণিল আলোকসজ্জায় মণ্ডপজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে আলো-আঁধারির নান্দনিক পরিবেশ। পরিবেশবান্ধব এই সৃজনশীল আয়োজন দেখতে শেরপুরের মণ্ডপটিতে ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থী।

শেরপুর শহরের নয়ানী বাজার কালীর বাজার মা ভবতারা মন্দিরে দুর্গাপূজার ৫৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে ব্যতিক্রমী এই আয়োজন করেছে মার্চেন্ট ক্লাব। বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতলকে শিল্পের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে আকর্ষণীয় এই মণ্ডপ। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন পূজার সৌন্দর্য বাড়ানো হয়েছে, অন্যদিকে পরিবেশ রক্ষার বার্তাও তুলে ধরা হয়েছে।

সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মণ্ডপটি দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরে দেখছেন ব্যতিক্রমী এই আয়োজন। পাশাপাশি স্মৃতি ধরে রাখতে তুলছেন ছবি।

মণ্ডপ দেখতে আসা অজয় কুমার বলেন, আগের বছর এখানে পাখির আদলে মণ্ডপ সাজানো হয়েছিল। এবার প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে তৈরি সাজসজ্জা আরও সুন্দর লাগছে। প্রতি বছর নতুন নতুন থিমে মণ্ডপ সাজানো হয় বলেই তিনি পরিবার নিয়ে দেখতে এসেছেন এবং স্মৃতি হিসেবে ছবি তুলেছেন।

আরেক দর্শনার্থী ঐশী পাল বলেন, এই উদ্যোগ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। প্লাস্টিক যত্রতত্র ফেলে না দিয়ে পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ও নান্দনিক জিনিস তৈরি করা সম্ভব। প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে বিভিন্ন ধরনের শিল্পকর্ম তৈরি করে সৃজনশীলতার চর্চার পাশাপাশি ঘরের সৌন্দর্যও বাড়ানো যায়।

মণ্ডপসজ্জার দায়িত্বে ছিলেন নয়ানী বাজার এলাকার দুই ভাই গৌর মালাকার ও নিতাই মালাকার। তারা জানান, প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হলেও সঠিকভাবে ব্যবহার করলে তা দিয়ে আকর্ষণীয় শিল্পকর্ম তৈরি করা সম্ভব। এই ধারণা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতেই তারা ব্যতিক্রমী মণ্ডপ তৈরির পরিকল্পনা করেন।

চারজন সহকারীকে সঙ্গে নিয়ে দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে তারা মণ্ডপসজ্জার কাজ করেছেন। এতে ছয় হাজারের বেশি পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল, তুলা ও নেট ব্যবহার করা হয়েছে। এসব উপকরণের সমন্বয়ে মেঘের আবহ তৈরি করে আলোকসজ্জার মাধ্যমে মণ্ডপটিকে দেওয়া হয়েছে ভিন্নধর্মী রূপ।

আয়োজকেরা জানান, অনিয়ন্ত্রিত প্লাস্টিক ব্যবহার ও যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাই এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। পূজা শেষে মণ্ডপে ব্যবহৃত সব প্লাস্টিকের বোতল পরিবেশসম্মতভাবে অপসারণ করা হবে।

মার্চেন্ট ক্লাবের সভাপতি মিহির কুমার দত্ত মুকুল বলেন, প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি সৃজনশীল উপায়ে মণ্ডপ সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে মানুষের কাছে পরিবেশ রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল উদ্দেশ্য।

এর আগে গত বছর মার্চেন্ট ক্লাবের আয়োজনে পাখির থিমে সাজানো পূজামণ্ডপ জেলাজুড়ে সাড়া ফেলেছিল। এবার পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে তৈরি ব্যতিক্রমী মণ্ডপটিও দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা