রাজধানীর খিলগাঁওয়ে জুলাই আন্দোলনের সময় বিএনপির কর্মী জাহিদ হোসেন রাব্বী নিহতের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাসহ ১২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের আবেদন করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকির আদালতে মামলার আবেদন করেন নিহত রাব্বীর মামা ও খিলগাঁও থানার ঝিলপাড় ইউনিটের যুবদল সদস্য নাঈম কলিমুল্লাহ সরকার।
বুধবার সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিপন মিয়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আগামী ২ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম।
এ ছাড়া মামলায় সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবের হোসেন চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেননের নাম রয়েছে।
সাবেক অর্থমন্ত্রী লোটাস কামাল, সাবেক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, মোহাম্মদ এ আরাফাত ও জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক তিন সিটি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, আতিকুর রহমান ও জাহাঙ্গীর আলম এবং সাবেক এমপি মাহবুব-উল-আলম হানিফ, শেখ হেলাল, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মির্জা আজম, মুজিবুর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সন চৌধুরী, নূর মোহাম্মদ, সাইফুজ্জামান শেখর, নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন, নজরুল ইসলাম বাবু ও ডা. হাবিব এ মিল্লাতকেও আসামি করা হয়েছে।
সাবেক আমলাদের মধ্যে মামলায় রয়েছেন সাবেক মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত সচিব হারুন অর রশীদ বিশ্বাস, সাবেক যুগ্ম সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস ও আবুল ফজল মীর বাদল এবং সাবেক অতিরিক্ত সচিব শায়লা ফারজানা শিউলি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, বেনজীর আহম্মেদ, জাবেদ পাটোয়ারী ও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ ছাড়া এনটিএমসির সাবেক ডিজি জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া ও হাবিবুর রহমান, ডিবির সাবেক প্রধান হারুন-অর-রশীদ, সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম এবং আব্দুল কাহার আকন্দের নামও রয়েছে।
মামলায় আইনজীবী হিসেবে সৈয়দ রেজাউর রহমান, নজিবুল্লাহ হিরু, মোশাররফ হোসেন কাজল ও খুরশীদ আলম খানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
যেভাবে নিহত হন রাব্বী
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, জাহিদ হোসেন রাব্বী বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পেশায় তিনি একজন ফটোগ্রাফার ও গ্রাফিক্স ডিজাইনার। তিনি নিয়মিত বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, জুলাই আন্দোলনের শেষ দিনে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের তালতলা এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেন রাব্বী। ওইদিন দুপুর ২টার দিকে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।