September 8, 2026, 7:13 pm

সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ানোয় ভালো প্রার্থী বাছাই হবে: জাহেদ উর রহমান

সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০ গ্রেডে নিয়োগের ক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে যোগ্য ও দক্ষ প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেছেন, কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়া কিংবা বৈষম্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে নয়, বরং দক্ষ ও যোগ্য প্রশাসনিক জনবল নিশ্চিত করতেই সরকারি চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষার নম্বরে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ভাইভার নম্বর বাড়ানো নিয়ে প্রশ্ন
সম্প্রতি সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালায় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর সর্বোচ্চ ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নম্বর কমানোর কথা বলা হয়েছে।

এ সিদ্ধান্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রশ্নটির মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ‘পারসেপশন’ রয়েছে।

ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর ফলে দুর্নীতি বা বিশেষ কাউকে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে কি না—এমন আশঙ্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার দুর্নীতি বা নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, সেটি সরাসরি প্রশ্ন করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকের কাজ চাঁচাছোলা প্রশ্ন করা। আমি সেই প্রশ্নেরও জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছি।’

‘ভাইভায় কারসাজির সুযোগ অস্বীকার করছি না’
লিখিত পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়া প্রার্থীকে ভাইভার মাধ্যমে পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে—সাংবাদিকের এমন যুক্তির বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, মৌখিক পরীক্ষা তুলনামূলকভাবে বিষয়নির্ভর হওয়ায় সেখানে কারসাজি বা পছন্দের প্রার্থীকে সুবিধা দেওয়ার সুযোগ বেশি থাকতে পারে।

তবে এ সম্ভাবনা থাকলেও শুধু লিখিত পরীক্ষার ফল দিয়ে একজন সরকারি কর্মচারীর যোগ্যতা নির্ধারণ করা উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, একজন সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা যাচাই করতে শুধু বইভিত্তিক জ্ঞান নয়, অন্যান্য দক্ষতা ও অ্যাপটিটিউডও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

‘লিখিত ফল ভালো না হলেও নিয়োগ পাওয়ার যোগ্য মনে হয়েছে’
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, তিনি একাধিক বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। লিখিত পরীক্ষায় কোনো প্রার্থী কত নম্বর পেয়েছেন, তা না জেনেও কখনো এমন প্রার্থীকে ভাইভায় পেয়েছেন, যাকে তার কাছে নিয়োগ পাওয়ার যোগ্য মনে হয়েছে।

তার মতে, লিখিত পরীক্ষায় ফল খুব ভালো না হলেও ওই প্রার্থীর মধ্যে চাকরিতে ভালো করার মতো প্রয়োজনীয় গুণ ও সক্ষমতা থাকতে পারে।

তিনি বলেন, প্রশাসনে এমন মানুষ প্রয়োজন, যাদের শুধু লিখিত পরীক্ষায় ভালো করার সক্ষমতাই নয়, দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য দক্ষতা ও অ্যাপটিটিউডও রয়েছে। এসব বিষয় ভাইভার মাধ্যমে তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনিয়ম হলে সংস্কারের আশ্বাস
তবে মৌখিক পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে অনিয়মের সুযোগ থাকলে তা নিয়োগব্যবস্থার পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে মোকাবিলা করা হবে বলে জানান জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, সরকার মনে করেছে নতুন মার্কিং পদ্ধতির মাধ্যমে আরও কার্যকরভাবে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করা সম্ভব। এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার আইনগত ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কোনো নিয়োগের পর নির্দিষ্ট অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম হলে তা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীরা পৃথকভাবে কত নম্বর পেয়েছেন, তা প্রকাশের বিধান করা যায় কি না—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করার আশ্বাস দেন জাহেদ উর রহমান

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা