লালমনিরহাট প্রতিনিধি :
লালমনিরহাট (১৫ বিজিবি) ব্যাটালিয়নের এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গংগারহাট ও গোড়কমন্ডল বিওপির টহলদল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ফেয়ারডিল সিরাপসহ মোটরসাইকেল এবং গাঁজা জব্দ করেছে।
বিশ্বস্ত গোয়েন্দা সূত্রে বিজিবি জানতে পারে, চোরাকারবারীরা সীমান্ত পথ দিয়ে মাদক চোরাচালান করবে। তথ্যানুযায়ী, (০৩ ই সেপ্টেম্বর) ২০২৬ ইং রাত ২০:৩০ মিনিটে গংগারহাট বিওপির আওতাধীন মধ্যটারী (থানা- ফুলবাড়ি, জেলা-কুড়িগ্রাম) নামক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উক্ত অভিযান চলাকালে টহলদলের সদস্যরা সন্দেহজনক ব্যক্তিকে মোটরসাইকেলযোগে আসতে দেখে থামার সংকেত দিলে উক্ত ব্যক্তি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে মোটরসাইকেলটি তল্লাশি করে ভারতীয় ফেয়ারডিল সিরাপ ২৬৩ বোতল উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক বহন কাজে ব্যবহারিত ০১টি (১২৫ সিসি) মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
একই দিন ভোর ০৪:১০ ঘটিকায় গোড়কমন্ডল বিওপির আওতাধীন গোড়কমন্ডল পূর্বটারী (থানা-ফুলবাড়ী, জেলা-কুড়িগ্রাম) নামক স্থানে আরেকটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উক্ত অভিযান চলাকালীন টহল দলের সদস্যরা কতিপয় সন্দেহজনক ব্যক্তিকে আসতে দেখে তার গতিবিধি লক্ষ্য করে ধাওয়া করলে উক্ত চোরাকারবারী তার সাথে থাকা মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশী করে ভারতীয় গাঁজা ৪.২ কেজি জব্দ করতে সক্ষম হয়।
লালমনিরহাট (১৫ বিজিবি)ব্যাটালিয়ন এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত ফেয়ারডিল সিরাপ ২৬৩ বোতল, যার সিজার মূল্য ১,০৫,২০০/ গাঁজা ৪.২ কেজি, যার সিজার মূল্য ১৪,৭০০/এবং হোন্ডা (১২৫ সিসি) মোটরসাইকেল ০১টি, যার সিজার মূল্য ১,৬৫,০০০/ টাকাসহ সর্বমোট সিজার মূল্য ২,৮৪,৯০০/ টাকা। এছাড়াও চোরাচালান চক্রের সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারীদের তথ্য সংগ্রহপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার “লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি জানায়,দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। চোরাচালান ও মাদকপাচার এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন এর প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। এছাড়াও, দেশের যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আমরা গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা করেছি এবং ভবিষ্যতেও এধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।