বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় অতিবৃষ্টি ও ভাইরাসের সংক্রমণে বাগদা চিংড়িতে ব্যাপক মড়ক দেখা দিয়েছে। গত এক মাস ধরে বিভিন্ন ঘেরে বিপুল পরিমাণ মাছ মরে ভেসে ওঠায় চাষিরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এই বিপর্যয়ের কারণে চলতি মৌসুমে চিংড়ির উৎপাদন গত বছরের তুলনায় অর্ধেকের নিচে নেমে আসবে।
উপজেলা মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মোংলার মোট ১৪ হাজার ৫০০ হেক্টর কৃষিজমির মধ্যে ১৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে বাগদা চিংড়ির চাষ হয়। স্থানীয় অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই খাত বর্তমানে বড় ধরনের হুমকির মুখে রয়েছে।
চাঁদপাই, সুন্দরবন, মালগাজী ও হলদিবুনিয়া এলাকার চাষিরা জানান, জুন মাস থেকে টানা বৃষ্টি ও ভাইরাসের কারণে ঘেরে মাছ মারা যাচ্ছে। মরা চিংড়িগুলো লালচে রং ধারণ করে পাড়ে ভাসছে। ভরা মৌসুমে ঘেরগুলো এখন প্রায় মাছশূন্য হয়ে পড়েছে।
সুন্দরবন ইউনিয়নের ঢালীরখন্ড গ্রামের চিংড়িচাষি আবুল কাসেম জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ঘেরে প্রায় সাত লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন, কিন্তু মড়কের কারণে এ পর্যন্ত মাত্র এক লাখ টাকার মাছ পেয়েছেন।
এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের অভিযোগ, চিংড়ি রপ্তানি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় হলেও তাদের সংকট নিরসনে মৎস্য অধিদপ্তরের কার্যকর পদক্ষেপ নেই। মোংলা উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম মড়কের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, হ্যাচারি থেকে আনা পোনায় জীবাণু থাকতে পারে এবং টানা বৃষ্টিপাতও এর একটি বড় কারণ।