August 7, 2026, 6:55 pm

মাকে কাঁধে করে ছেলের ভিক্ষাবৃত্তি

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি :

ক্ষুধার জ্বালা আর মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে জয়পুরহাটের পাঁচবিবির যুবক ওবাইদুল মাকে কাঁধে নিয়েই করছে ভিক্ষাবৃত্তি। অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী মা নুরবানুকে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাঁধে-কোলে-পিঠে করে পাঁচবিবি রেলস্টেশন ও বাজার এলাকায় ভিক্ষার পয়সায় চলে মা-ছেলের জীবন।

সারাদিন মাকে কোলে পিঠে বেঁধে নিয়ে ক্লান্ত শরীরে এখানে সেখানে ভিক্ষা শেষে মা-ছেলে স্টেশন ফিরে আসে। কারন মা নুরবানু ও ছেলে ওবাইদুলের কোনো স্থায়ী বাসাবাড়ি নেই। পেটের দায়ে সারাদিন ভিক্ষা শেষে রাত কাটে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের মেঝেতেই। ভিক্ষার টাকায় মিটে তাদের ক্ষুধার জ্বালা।

ওবাইদুল জানান, তার মা একসময় স্বাভাবিক ছিলেন। কয়েক বছর আগে মাথায় বড় ঘা হয়ে পোকা হলে সেখান থেকেই স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। পরে মাকে চিকিৎসা করালে কিছুটা সুস্থ হয়। কিন্তু মা আর হাঁটা চলা করার শক্তি হারিয়ে ফেলে। এমনকি দাঁড়াতে এবং বসে থাকতেও পারে না একা একা।

পাবনার ভেড়ামারা এলাকার জয়নাল হোসেনের সঙ্গে নুরবানুর বিয়ে হয়েছিল। আর একটি সংসার নিয়ে জয়নাল স্টেশন কুলিপট্টি তুড়িপাড়ায় বসবাস করে। ওবাইদুল ছোট থাকতেই মা-ছেলের কোনো খোঁজখবর নেওয়া বন্ধ করে দেয় অভিযোগ ওবাইদুলের। অনেক বছর থেকেই মা-ছেলে স্টেশনে মানবেতর জীবনযাপন করে আসছেন।

ওবাইদুল নিজেই মায়ের গোসল, খাওয়া-দাওয়া, প্রসাব-পায়খানা সবকিছু করে। তিনি বলেন, আমি কাজ করতে পারি। কিন্তু মাকে একা রেখে গেলে কোথায় চলে যাবে তার ঠিক নেই কারন মাথার সমস্যা আছে। বাধ্য হয়ে মা সহ অন্যের নিকট হাত পাততে হয়।

এত কষ্টের মাঝেও মাকে ছেড়ে যেতে পারিনা বলে ওবাইদুল। সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে তার একটাই চাওয়া মায়ের জন্য যদি একটি হুইলচেয়ার পাওয়া যেত। তাহলে মাকে এভাবে কাঁধে করে ঘুরতে হতো না, মায়ের কষ্টও কিছুটা কম হতো।

পাঁচবিবির সাধারণ মানুষের চোখে এই দৃশ্য এখন নিত্যনৈমিত্তিক। কিন্তু একজন সন্তানের মায়ের প্রতি এমন মমতা ও দায়িত্ববোধ সবার নজরে আসে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তর দ্রুত হস্তক্ষেপ করে মা-ছেলের কষ্টের জীবনের অবসান করুক।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা