প্রতিনিধি :
বর্ষা মৌসুমে নতুন রূপে সেজেছে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ঘুড়িদহ ইউনিয়নের তেনাচিড়া বিল। বিস্তীর্ণ জলরাশি, শাপলা-পদ্মে ভরা বিল, সবুজে ঘেরা পরিবেশ এবং পানির মাঝ দিয়ে চলে যাওয়া এলজিইডির নির্মাণাধীন সড়ক মিলিয়ে সৃষ্টি হয়েছে এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে প্রতিদিনই বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত দর্শনার্থী ভিড় করছেন এখানে। অনেকেই জায়গাটিকে উত্তরবঙ্গের ‘মিনি কক্সবাজার’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
প্রতিদিন বিকেলের পর গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে আসছেন ভ্রমণপ্রেমীরা। কেউ প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, কেউ নৌকায় চড়ে বিল ঘুরে দেখছেন, আবার কেউ স্মৃতিবন্দি করছেন মোবাইল ফোন কিংবা ক্যামেরায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট নির্মাতাদের উপস্থিতিও দিন দিন বাড়ছে।
শাপলা-পদ্মে আচ্ছাদিত বিল, ছোট ছোট ডিঙি নৌকা, শীতল বাতাস এবং সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে। শিশুদের কোলাহল, পাখির ডাক ও পানির মৃদু ঢেউ মিলিয়ে পুরো এলাকায় তৈরি হয়েছে এক নির্মল ও শান্ত পরিবেশ।
গোবিন্দগঞ্জ থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা নারগিস আক্তার বলেন, “এখানে এসে সত্যিই দারুণ লাগছে। পরিবারের সবাই মিলে অনেক সুন্দর সময় কাটিয়েছি। প্রকৃতির এমন সৌন্দর্য মনকে প্রশান্ত করে।”
সোনাতলা থেকে আসা জেমি আক্তার বলেন, “বন্ধু-বান্ধবীদের সঙ্গে তেনাচিড়া বিলে এসে অনেক আনন্দ করেছি। সময়টা খুবই উপভোগ করেছি।”
নৌকার মাঝি সাব্বির রহমান বলেন, “বর্ষা এলেই তেনাচিড়া বিলে মানুষের আনাগোনা বেড়ে যায়। এতে নৌকা চালিয়ে আমাদের কিছু অতিরিক্ত আয় হয়।”
সাঘাটার এক শিক্ষীকা কামরুন্নাহার দিনা বলেন, “তেনাচিড়া বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই ব্যতিক্রম। যথাযথ পরিকল্পনা, পরিচর্যা ও সংরক্ষণ করা হলে এটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।”
রংপুর থেকে ঘুরতে আসা অলরাউন্ডার বি ডি আশিক মাহমুদ বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেনাচিড়া বিলের সৌন্দর্য দেখে এখানে ঘুরতে এসেছি। বাস্তবে এসে দেখলাম, জায়গাটি ছবির চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি অসাধারণ ভ্রমণস্থান।”
ঘুড়িদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম আহম্মেদ তুলিপ বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে তেনাচিড়া বিল ভ্রমণপিপাসু মানুষের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আসাদুজ্জামান জানান, চলতি বছরের টানা বৃষ্টিপাতে তেনাচিড়া বিলে পর্যাপ্ত পানি জমেছে। নির্মাণাধীন সড়কের কিছু অংশ পানির নিচে চলে যাওয়ায় বিলের সৌন্দর্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে, যা দর্শনার্থীদের টানছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর তেনাচিড়া বিল এখন উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাছে একটি জনপ্রিয় ভ্রমণগন্তব্য। স্থানীয়দের আশা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এটি দেশের অন্যতম পরিচিত ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।