মোহাম্মদ আসাদ-স্টাফ রিপোর্টার।
জামালপুরের বকশীগঞ্জ সীমান্তে দীর্ঘ সময় শূন্যরেখায় আটকে থাকার পর উদ্ধার হওয়া আলোচিত ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনকে অবশেষে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বকশীগঞ্জ থানা পুলিশ ও বিজিবি তাকে পরিবারের সদস্যদের কাছে তুলে দেয়। এর আগে বুধবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ দেখে তার স্বজনরা ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনকে শনাক্ত করে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৪টার দিকে তাকে নিতে বকশীগঞ্জ থানায় পৌঁছান তার ছোট ভাই ভবানী চন্দ্র বর্মন, মেয়ের জামাই গৌড় চন্দ্র বর্মন ও নাতি। দীর্ঘ আড়াই মাস পর দুই সহোদরের মুখোমুখি সাক্ষাতে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। একে অপরের হাত ধরতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন দুই ভাই, যা উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে।
পরে বিজিবি ও থানা পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনকে তার ছোট ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করে। এ সময় বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন, জামালপুর-৩৫ বিজিবির ধানুয়া কামালপুর কোম্পানি কমান্ডার বিল্লাল হোসেন এবং পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে বকশীগঞ্জ উপজেলার রামরামপুর সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে তাকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। জানা যায়, মানসিক ভারসাম্যহীন ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনকে নিয়ে মঙ্গলবার ভোররাত থেকে বুধবার পর্যন্ত বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে নাগরিকত্ব নিয়ে টানাপোড়েন চলে। একপর্যায়ে শূন্যরেখায় রেখে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী নিজ নিজ অবস্থানে ফিরে গেলে তিনি দীর্ঘ সময় সেখানে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।
ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনের ছোট ভাই ভবানী চন্দ্র বর্মন জানান, প্রায় দুই মাস আগে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার নারায়ণপুর-চাঁন্দলাই গ্রাম থেকে নিখোঁজ হন তার ভাই। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, বুধবার সকালে বকশীগঞ্জের রামরামপুর সীমান্তের ১০৮২ নম্বর পিলারের কাছে বিএসএফ সদস্যরা তাকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করলে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধার মুখে তা ব্যর্থ হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে বিজিবি তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
বকশীগঞ্জ থানার ওসি মকবুল হোসেন বলেন, “পরিবারের সদস্যদের পরিচয় ও তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনকে তার ছোট ভাই ভবানী চন্দ্র বর্মনের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা রাজশাহীর উদ্দেশ্যে বকশীগঞ্জ ত্যাগ করেছেন।”