May 20, 2026, 4:40 am

নারায়ণগঞ্জ সদরে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলো ১৩ পশুর হাটের ইজারা

এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ:
বিগত বছরগুলোতে কোরবানির পশুর হাটের ইজারা দেওয়াকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে মারামারি ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। কোনো বছর আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি বিনিময়ের ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেছেন স্থানীয়রা। তাই এবার নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির সদর উপজেলা প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন— এবার যেন কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে হাটের ইজারা সমাপ্ত হয়। প্রয়োজনে সর্বোচ্চ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে হাটের ইজারা সমাপ্ত করার নির্দেশ দেন তিনি।

তারই নির্দেশনার আলোকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম ফয়েজ উদ্দিন সর্বোচ্চ সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে পুরো সদর উপজেলা নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় এনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে হাটের দরপত্র বিক্রি ও দরপত্র উন্মুক্ত করেন। তাই এবার কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা এবং অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ১৩টি পশুর হাটের দরপত্র উন্মুক্ত করে ইজারাদারদের নাম ঘোষণা করতে পেরেছে সদর উপজেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার ১৯ মে বিকেলে সদর উপজেলা পরিষদে নিজ কার্যালয়ে দরপত্র উন্মুক্ত করে সর্বোচ্চ দরদাতাদের নাম ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন।

দরপত্র উন্মুক্ত করাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। পাশাপাশি বিশৃঙ্খলা এড়াতে পরিষদে প্রবেশের জন্য একটিমাত্র পথ খোলা রেখে বাকিগুলো বন্ধ রাখা হয়।

তবে সারাদিন স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন বিএনপি নেতাকে ইউএনওর কক্ষে কয়েকবার প্রবেশ করতে এবং বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। এছাড়া এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকরাও উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ছিলেন।

এতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও দিনভর কোনো বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি।সর্বোচ্চ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে।

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে ২১ এপ্রিল উপজেলার বক্তাবলী খেয়াঘাটের ইজারাকে কেন্দ্র করে পরিষদ প্রাঙ্গণে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় মারামারি, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশকে লাঠিচার্জও করতে হয়।

গত বছরের ২৫ মে কোরবানির পশুর হাটের দরপত্র কেনার সময় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় কয়েকজন আহতও হন।

তবে এবার হাটের দরপত্রের ফরম কেনা, জমা দেওয়া ও উন্মুক্তের সময় কোনো বিশৃঙ্খলা না হওয়াতে প্রশংসিত হয়েছেন উপজেলা প্রশাসন সহ জেলা প্রশাসন। স্থানীয়দের মতে, ইউএনও ফয়েজ উদ্দিনের কঠোর অবস্থান ও জেলা প্রশাসকের সরাসরি তদারকির কারণেই এবার শান্তিপূর্ণভাবে ইজারা সম্পন্ন হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ইজারা কার্যক্রমকে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু করতে আগে থেকেই একটি যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি জমা পড়া দরপত্র যাচাই শেষে সর্বোচ্চ দরদাতাদের নাম ঘোষণা করে। পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকায় কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়নি।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, “জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনায় ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে পশুর হাটগুলোতে যেন সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় থাকে এবং সরকারি রাজস্ব আদায় নিশ্চিত হয়, সে লক্ষ্যেই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ইজারা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি হাটগুলোতে নিরাপত্তা, যানজট নিরসন ও স্বাস্থ্যবিধির বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “হাট ইজারায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা পেশিশক্তি বরদাশত করা হবে না। সকলের সহযোগিতায় এবার আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ইজারা প্রক্রিয়া শেষ করতে পেরেছি। হাট চলাকালীন সময়েও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত তদারকি করবে।”

এই বিভাগের আরও খবর


পাকিস্তানের পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে অপসারণ করা হয় ২০২২ সালের এপ্রিলে। সে ঘটনার প্রায় চার বছর পর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার দাবি করেছে একটি মার্কিন গণমাধ্যম। এতে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিষয়ে ইমরান খানের অবস্থান নিয়ে ক্ষেপে গিয়েছিলেন মার্কিন কর্মকর্তারা। ‘ফ্রম মিউচুয়াল সাসপিশন টু পলিটিক্যাল এমব্রেস: হাউ দ্য ইউএস লার্নড টু স্টপ ওয়ারিয়িং অ্যান্ড লাভ পাকিস্তান’ শিরোনামে সোমবার ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে অনুসন্ধানী গণমাধ্যম ‘ড্রপ সাইট’। এর একটি অংশে ইমরান খানকে অপসারণের প্রক্রিয়া এবং এতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক তৎকালীন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র হিসেবে তারা গোপন কূটনৈতিক তারবার্তার বরাত দিয়েছে। দীর্ঘ প্রতিবেদনটির ‘অল উইল বি ফরগিভেন’ উপশিরোনামের অংশে গণমাধ্যমটি লিখেছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করেন। এরপর রাশিয়াকে দমানোর বিষয়টি তৎকালীন জো বাইডেন প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে ওঠে। কোনো একটি পক্ষ বেছে নেওয়ার জন্য মার্কিন কূটনীতিকরা বিভিন্ন দেশের সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। ওই সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিশ্ব যখন বিভক্ত হতে শুরু করে, তখন আকস্মিক এক ঝড়ের মাঝে পড়ে পাকিস্তান। ইমরান খান ও ডোনাল্ড লু। ছবি: সংগৃহীত ইমরান খান ও ডোনাল্ড লু। ছবি: সংগৃহীত ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ বাহিনী ইউক্রেনের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। সেদিনই পূর্ব নির্ধারিত একটি সফরে মস্কোতে অবস্থান করছিলেন পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পুতিনের সঙ্গে তিনি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন। তবে এই সফরের কয়েকদিন আগে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মইদ ইউসুফকে ফোন করেছিলেন জো বাইডেনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান। তিনি ইমরান খানের মস্কো সফর বাতিলের তাগিদ দেন। ইউসুফ ও সুলিভানের ফাঁস হওয়া সেই ফোনালাপের বরাত দিয়ে ড্রপ সাইট লিখেছে, সুলিভান ওই সফরের বিষয়ে ইসলামাবাদকে সতর্ক করেছিলেন। ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিতে তিনি পাকিস্তানকে চাপ দেন। কিন্তু ইমরান খান সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেন। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর খবর যেদিন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সেদিনই পুতিন ও ইমরান খানের বৈঠকের একটি ছবি ভাইরাল হয়। তাতে দুই নেতা করমর্দন করছিলেন। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা তখন বলেছিলেন, কয়েক মাস ধরে ওই সফরটির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাই সেটি বাতিলের সুযোগ ছিল না। কিন্তু তারপরও ওয়াশিংটন বৈঠকটিকে সহজভাবে নেয়নি। পুতিন-ইমরান বৈঠকের কয়েকদিন পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব তোলা হয়। তাতে চীন, ভারত ও গ্লোবাল সাউথের বেশিরভাগ দেশ ভোট দিলেও পাকিস্তান বিরত থাকে। ড্রপ সাইট লিখেছে, ইমরান খানের মস্কো সফর এবং ওয়াশিংটনের পক্ষ না নেওয়ায় মার্কিন কূটনীতিকরা এমনিতেই ক্ষুব্ধ ছিলেন। ফলে তাঁরা ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় পাকিস্তানি প্রতিনিধিদের জানাতে শুরু করেন, দুই দেশের সুসম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। ইমরান খান ও ভ্লাদিমির পুতিন। ফাইল ছবি: এএফপি ইমরান খান ও ভ্লাদিমির পুতিন। ফাইল ছবি: এএফপি ২০২২ সালের ৭ মার্চ ডোনাল্ড লুর সঙ্গে বৈঠক করেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদ খান। পরে মজিদ ও লুর কথোপকথনের অত্যন্ত গোপনীয় একটি কূটনৈতিক তারবার্তা ফাঁস হয়। যেটি সাইফার নামে পরিচিত। তারবার্তার বরাত দিয়ে ড্রপ সাইট লিখেছে, পাকিস্তানি দূতকে ডোনাল্ড লু বলেছিলেন, ইমরান খানের সরকারের প্রতি ওয়াশিংটনের যে ক্ষোভ তা এড়ানো সম্ভব। লু আরো বলেছিলেন, ‘অল উইল বি ফরগিভেন’ অর্থাৎ সবকিছু ক্ষমা করে দেওয়া হবে। এই বাক্যটির উদ্ধৃতি দিয়ে পরে পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, ‘যদি অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়।’ পরের মাসে (৯ এপ্রিল) পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট একটি অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়। এরপর তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফকে (পিটিআই) কার্যত নিষিদ্ধ করা হয়। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে পিটিআইয়ের যেসব নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন, তাঁদেরও স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচনের এসব বিষয় তখন এড়িয়ে যায়। ড্রপ সাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন। স্ক্রিনশট ড্রপ সাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন। স্ক্রিনশট ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে দুর্নীতি, আদালত অবমাননা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ড্রপ সাইট লিখেছে, ইমরান খানের সরকার ওয়াশিংটনকে যা যা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, সামরিক সমর্থনপুষ্ট বর্তমান সরকার ক্ষমতায় বসে তা সরবরাহ করতে শুরু করে। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে পাকিস্তান গোপনে ইউক্রেনের কাছে গোলাবারুদ পাঠায়। ফাঁস হওয়া নথি থেকে জানা যায়, ওই অস্ত্রগুলো তৃতীয় দেশের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইউক্রেনে পাঠানো হয়েছিল। বিনিময়ে পাকিস্তান পরে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পায়

ফেসবুকে আমরা