যশোরে বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে কৃষি উপকরণ সারের সঠিক চাহিদা নির্ধারণ, বাজার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্যে সার পাওয়ার অধিকার রক্ষায় ৫ দফা দাবি তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে জাতীয় কৃষক খেতমজুর সমিতি জেলা কমিটি। সোমবার দুপুর ১২টায় সংগঠনের জেলা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে কৃষি উৎপাদন টেকসই রাখা এবং কৃষকদের ক্ষতি থেকে রক্ষায় জরুরি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন জেলা সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সহ–সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ভিটু। তিনি বলেন, বোরো মৌসুম বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান ভিত্তি। এ সময় সারের সংকট, অতিরিক্ত মূল্য এবং ডিলারদের অনিয়ম কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। সার–সংক্রান্ত যে কোনো অনিয়ম রোধে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও কঠোর মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে।
লিখিত বক্তব্যে যশোর জেলায় চলতি বোরো মৌসুমের সারের চাহিদা সঠিকভাবে নির্ণয়, ইউনিয়নভিত্তিক অনুমোদিত ডিলারদের তালিকা প্রকাশ, এক ব্যক্তি নামে–বেনামে একাধিক লাইসেন্স নিয়ে কারসাজি করলে তা বাতিল, চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো সার সরবরাহ, এবং সারের দাম কমিয়ে কৃষকবান্ধব ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ—এই পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, দেশে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সার সরবরাহে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা অত্যন্ত জরুরি। সারের বাজারে সিন্ডিকেট ও দুর্নীতি কৃষকের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ন করে আসছে বহুদিন ধরে। এসব অনিয়ম বন্ধ না হলে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক তসলিম উর রহমান, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক বিপুল বিশ্বাস, জেলা নেতা অনিল বিশ্বাস, পলাশ বিশ্বাস, সাহবুদ্দিন বাটুল, রবিউল ইসলাম, আব্দুল আজিজ, আব্দুল হালিম, আব্দুল হক প্রমুখ। নেতারা বলেন, কৃষককে বাঁচাতে হলে প্রথমেই দরকার সারের ন্যায্যমূল্য ও নির্বিঘ্ন সরবরাহ। মাঠপর্যায়ে ডিলারশিপ ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে নৈরাজ্য, অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রভাব এবং নামে–বেনামে লাইসেন্স নিয়ে মজুতদারির অভিযোগ রয়েছে, যা কৃষকের ক্ষতির মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ৫ দফা দাবি আদায় না হলে আগামী ৩১ ডিসেম্বর যশোর জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে এবং জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। তারা আরও বলেন, প্রয়োজনে দাবি আদায়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কৃষক দেশের অক্লান্ত পরিশ্রমী জনশক্তি—তাদের স্বার্থ রক্ষায় আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিলে সারের বাজারে স্বচ্ছতা ফিরবে, কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং বোরো মৌসুমে দেশের খাদ্য উৎপাদন নিরাপদ থাকবে। দেশের কৃষিকেন্দ্রিক অর্থনীতিকে সচল রাখতে সার ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি ও অনিয়মরোধ এখন সময়ের দাবি।