-
- রাজনীতি
- এনসিপিতে নারী নেত্রীদের পদত্যাগে বাড়ছে বিতর্ক, প্রশ্নের মুখে জামায়াতের সঙ্গে জোট
- আপডেটের সময় : নভেম্বর, ৭, ২০২৬, ১:০৭ অপরাহ্ণ
- 20 বার দেখা হয়েছে
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নারী নেত্রীর পদত্যাগ ঘিরে দলটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট, কাউন্সিল ছাড়াই কমিটি পুনর্গঠন এবং দলে নারী নেতৃত্বের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে পদ ছেড়েছেন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন প্রতিষ্ঠাকালীন শীর্ষ নেত্রী সামান্তা শারমিন। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতা ও জোট গঠনের বিরোধিতা করে পদত্যাগ করেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা এবং যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন। নির্বাচনের মাত্র নয় মাসের মাথায় সামান্তার পদত্যাগে দলটির অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ আবারও সামনে এসেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে পদত্যাগের কারণ তুলে ধরেন সামান্তা শারমিন। তিনি অভিযোগ করেন, এনসিপির নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট না থাকায় দলটি ক্রমেই জামায়াতের প্রভাববলয়ে চলে যাচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতেও এনসিপিকে জামায়াতের সহায়ক ভূমিকা পালন করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সামান্তার মতে, এনসিপির সামনে সমতা ও নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার সুযোগ থাকলেও দলটি সে পথে না গিয়ে নারীবিরোধী রক্ষণশীল রাজনৈতিক প্রবণতার সঙ্গে আপস করেছে।
এ ছাড়া গত ২৩ অক্টোবর কাউন্সিল ছাড়াই শীর্ষ পদে রদবদল এবং তাঁকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক থেকে যুগ্ম আহ্বায়ক পদে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তকে অগণতান্ত্রিক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে দলটির নেতৃত্ব এসব অভিযোগকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছে। এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠন করা হয়েছিল। এ সিদ্ধান্তে দলের সবাই একমত না হওয়া কিংবা কেউ দলত্যাগ করা অস্বাভাবিক নয়।
কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়ে তিনি জানান, দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আনতে এবং অকার্যকর পদগুলো সচল করতেই আহ্বায়ক কমিটিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, জামায়াতের সঙ্গে জোটের কারণে এনসিপির ‘জামায়াতিকরণ’ হচ্ছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা নাকচ করেছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। তাঁর দাবি, সংস্কার ও বিচারের দাবিতে কৌশলগত ঐক্য থাকলেও বিভিন্ন নীতি ও বিলের প্রশ্নে সংসদে এনসিপি নিজস্ব অবস্থান বজায় রেখেছে।
দলে নারী নেতৃত্ব সংকুচিত হওয়ার অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন মনিরা। তাঁর ভাষ্য, তৃণমূল পর্যায়ে এখনো বিপুলসংখ্যক নারী নেতৃত্ব সক্রিয় রয়েছেন। কয়েকজন পরিচিত নেত্রীর পদত্যাগের কারণে দলটিতে নারী নেতৃত্বের সংকট তৈরি হয়েছে, এমন দাবি সঠিক নয়।
সব মিলিয়ে, একের পর এক নারী নেত্রীর পদত্যাগের ঘটনায় এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান, সাংগঠনিক গণতন্ত্র এবং নারী নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
এই বিভাগের আরও খবর
- বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির ৭ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
- সামান্তাকে নিয়ে অপপ্রচার, সমালোচনায় মাহফুজ আলম
- জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ
- কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আমির হামজার নির্বাচনী হলফনামা, আয়কর রিটার্ন ও আর্থিক তথ্যে একাধিক অসংগতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন মোঃ সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। gnewsদৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া ওই আবেদনে আমির হামজার নগদ অর্থ, ব্যাংক জমা, কৃষিজমি, আবাসিক প্লট, স্ত্রীর সম্পদ, বাড়িভাড়া, মোটরযান, পারিবারিক ব্যয় ও নির্বাচনী ব্যয়ের তথ্য নিয়ে বিভিন্ন অসংগতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, ৩০ জুন ২০২৫ তারিখের আয়কর রিটার্নে আমির হামজার ব্যাংক ব্যালেন্স শূন্য দেখানো হলেও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির কুষ্টিয়া শাখায় তাঁর একটি হিসাবে ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৭ টাকা জমা ছিল। এ ছাড়া নির্বাচনী হলফনামায় নগদ অর্থের পরিমাণ ২ লাখ ৪৫ হাজার ১৭০ টাকা দেখানো হলেও আয়কর রিটার্নে দেখানো হয়েছে ৩৮ লাখ ৪৫ হাজার ১৭০ টাকা। এতে ৩৬ লাখ টাকার পার্থক্য রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনে আরও বলা হয়, আমির হামজা প্রতি শুক্রবার আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এক লাখ টাকা এবং বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্মানী পান বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব আয়ের তথ্য নির্বাচনী হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন আবেদনকারী। তাঁর দাবি, আয়কর রিটার্নে বার্ষিক আয় ৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে, যার পুরোটাই হামজা এন্টারপ্রাইজের কাপড় ও বইয়ের ব্যবসা থেকে এসেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনে আমির হামজার ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য হলফনামায় উল্লেখ না করা এবং তাঁর স্ত্রীর আয়কর রিটার্নের তথ্য প্রকাশ না করার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। কৃষি সম্পত্তির তথ্যেও অসংগতির অভিযোগ করা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, হলফনামায় আমির হামজার কৃষিজমির মূল্য ১১ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ টাকা দেখানো হলেও আয়কর রিটার্নে তা ১৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ টাকা উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রীর কৃষিজমির পরিমাণ হলফনামায় ১২ কাঠা বা ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ দেখানো হলেও আয়কর রিটার্নে ১২০ শতাংশ জমির তথ্য রয়েছে। দুই নথিতে জমির মূল্যেও ১৫ লাখ টাকার পার্থক্য রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর নিবন্ধিত ৬৪৯৮ নম্বর দলিলে আমির হামজার স্ত্রী ১৭ দশমিক ১১ শতাংশ জমি কিনেছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জমিটির মূল্য ৬ লাখ টাকা এবং তাঁর স্ত্রীর অংশের মূল্য ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৪০০ টাকা। আবেদনকারীর অভিযোগ, এই সম্পত্তির তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি। আবেদনে কুষ্টিয়া শহরের রাহিনী মৌজায় আমির হামজার নিজ নামে ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ জমির একটি আবাসিক প্লট থাকার কথাও বলা হয়েছে। ২০১৪ সালে কেনা ওই জমির বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ টাকা বলে দাবি করেছেন আবেদনকারী। তবে হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে এ সম্পত্তির তথ্য নেই বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া স্ত্রীর নামে দেখানো বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বাড়িভাড়ার আয়, ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৯-১৭৫৭ নম্বরের গাড়ি, ১১৬ দশমিক ৬৪ গ্রাম স্বর্ণ এবং পাঁচতলা ভবন ও জমির মূল্যায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারী। তাঁর দাবি, গাড়িটির মূল্য হলফনামায় ২৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা দেখানো হলেও আয়কর রিটার্নে এর তথ্য নেই। একইভাবে আয়কর রিটার্নে ১০ ভরি স্বর্ণের তথ্য থাকলেও নির্বাচনী হলফনামায় তা উল্লেখ করা হয়নি। নির্বাচনী ব্যয় নিয়েও অভিযোগ করেছেন সিরাজুল ইসলাম। আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী বিভিন্ন খাতে ৩৪ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন পরিচালনার ব্যাংক হিসাব থেকে আরও ৩৮ লাখ টাকা নগদ উত্তোলন করা হয়। সব মিলিয়ে নির্বাচনী ব্যয় ৭২ লাখ টাকা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এ ব্যয় নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি কি না, তা তদন্ত করে দেখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া হলফনামায় বার্ষিক পারিবারিক ব্যয় ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৭৬০ টাকা দেখানো হলেও চালকের বেতন, ইউটিলিটি বিল ও সন্তানদের শিক্ষাব্যয় যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পাঁচতলা ভবন ও জমির সম্মিলিত মূল্য ১ কোটি ৬৮ লাখ ৭৩ হাজার ১৮৩ টাকা দেখানো নিয়েও আপত্তি তুলেছেন আবেদনকারী। আবেদনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচিত প্রার্থীর হলফনামা বা আয়-ব্যয়ের বিবরণীতে অসংগতি কিংবা মিথ্যা তথ্য পাওয়া গেলে নির্বাচন কমিশন তদন্ত করতে পারে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী প্রার্থিতা ও নির্বাচন বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনকারী এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চল, বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, যানবাহন নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ এবং ভূমি ও নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের নথিপত্র যাচাইয়ের অনুরোধ জানিয়েছেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় মূল দলিল উপস্থাপন করে তদন্তে সহযোগিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আবেদনকারী সিরাজুল ইসলাম ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে বর্তমানে তিনি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী এবং রাজনীতির সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, আমি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে মনে করছি, সংসদ সদস্যের নির্বাচনী হলফনামায় বিভিন্ন জায়গায় আর্থিক তথ্যের অসংগতি রয়েছে। এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তিনি একজন আলেম মানুষ। তার কাছ থেকে এমনটি প্রত্যাশা করিনি। এ কারণে আমি অভিযোগ করেছি। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য আমির হামজার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
- জ্বালানি খাতের ব্যর্থতার দায় জনগণের ওপর চাপানো যাবে না: জামায়াত
- বিপ্লব আপনারা কবে করেছেন, কোন বিপ্লবে ছিলেন: জামায়াতকে রিজভী
- পাটওয়ারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে ছাগল ও ল্যাপটপ চুরি বেড়ে যাবে: রাশেদ খাঁন
- পোশাকশিল্প ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চলছে, সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান শফিকুর রহমানের
- ইরানে পারমাণবিক হামলায় ট্রাম্পকে নেতানিয়াহুর চাপ, দাবি টাকার কার্লসনের
- বিদেশে বিএনপির কোনো প্রভু নেই যে তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবে: রিজভী