ইরানের ওপর পারমাণবিক হামলা চালাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ দিচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে ওয়াশিংটন। এমনই দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংবাদমাধ্যম ব্যক্তিত্ব টাকার কার্লসন।
সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কার্লসন এ দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের মধ্যাঞ্চলের পিকঅ্যাক্স পর্বত হতে পারে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু। ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের ধারণা, ওই এলাকায় তেহরান তাদের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুনরায় শুরু করেছে।
কার্লসনের দাবি, পর্বতের গ্রানাইট স্তর ভেদ করে ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় পৌঁছানো প্রচলিত মার্কিন অস্ত্রের পক্ষে কঠিন। এ কারণে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। নেতানিয়াহু এ ধরনের অভিযানের জন্য নিয়মিত ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে পারমাণবিক হামলার পরিকল্পনা কিংবা নেতানিয়াহুর চাপের বিষয়ে নিজের পোস্টে কোনো স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ দেননি কার্লসন।
তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন প্রশাসনের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, সেন্টকম কমান্ডার ব্র্যাড কুপার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কার্লসনের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ইরানে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থন চাইতে গোপনে আবুধাবি সফর করেছিলেন নেতানিয়াহু। তবে আমিরাত এতে সম্মতি দেয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলার পরিণতি নিয়েও সতর্ক করেন কার্লসন। তার মতে, পিকঅ্যাক্স পর্বতে পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটলে পারস্য উপসাগরের পানি দূষিত হওয়ার পাশাপাশি প্রায় ১০ কোটি মানুষের পানির সরবরাহ ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্রের প্রথম ব্যবহার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।
এদিকে অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনালাপে ইরান পরিস্থিতি, আলোচনা অব্যাহত রাখা এবং নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়েছে। পরে ওই ফোনালাপকে ‘খুব ভালো আলোচনা’ বলে বর্ণনা করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প এর আগে পিকঅ্যাক্স পর্বত নিয়ে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছিলেন। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, তেহরান কূটনৈতিক সমাধানের জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অপর পক্ষও সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনীতিকে বেছে নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কার্লসনের মতে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এখনও ইরানের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা দেখছেন। তাই পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি না বাড়িয়ে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।